শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / অনুপ্রেরণাদায়ী ঘটনাঃ ‘ইস্তিতগফার’ তথা ক্ষমাপ্রার্থনা

অনুপ্রেরণাদায়ী ঘটনাঃ ‘ইস্তিতগফার’ তথা ক্ষমাপ্রার্থনা

‘ইস্তিতগফার’ তথা ক্ষমাপ্রার্থনার এই ঘটনাটি ঘটেছিল ইমাম আহমদ বিন হানবলের (রাহিমাহুল্লা) জীবনে, যিনি একজন সর্বজনবিদিত আলেম এবং ফিকহশাস্ত্রবিদ। তিনি হানবলি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও বহুল সমাদৃত, উনার সম্মানসূচক উপাধি “শায়খ-উল-ইসলাম” এবং “আহলে সুন্নাহ’র ইমাম”।

ইমাম আহমদ তখন বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন, তিনি সফরে ছিলেন। যাত্রাপথে রাত হয়ে এলে তিনি অচেনা শহরটিতে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি অচেনা শহরে একজন আগন্তুক হিসেবেই থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন,অথচ তিনি যদি নিজের পরিচয় প্রকাশ করে নিজেকে কারও কাছে পরিচিত করতেন তখন যে কেউই সর্বোচ্চ চেষ্টা করত তার আতিথেয়তা করে ধন্য হবার। এখানেও একজন মহৎ ব্যক্তিত্ত্ব হিসেবে ইমাম আহমদের পরিচয় মেলে। তিনি রাতের সালাত শেষ করে তাই সিদ্ধান্ত নিলেন মসজিদ প্রাঙ্গনেই রাতটা কাটিয়ে দিবেন।

স্বাভাবিকভাবেই মসজিদের খাদেম তাকে চিনতে পারল না এবং তিনি মসজিদে রাত্রিযাপনের অনুমতিও পেলেন না। তিনি তখন যথেষ্ট বয়স্ক একজন মানুষ, মসজিদের খাদেম তাকে এক প্রকার টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে দিল। একজন রুটি বিক্রেতা দৃশ্যটি দেখলেন। এভাবে একজন বয়স্ক মানুষকে অপমানিত হতে দেখে রুটি বিক্রেতার মনে দয়া হল। রুটি বিক্রেতা লোকটি ইমাম আহমদের মেহমানদারি করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

ইমাম আহমদ লোকটির সাথে অবস্থানকালে একটি অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করলেন। তিনি দেখলেন ঐ রুটি বিক্রেতাটি প্রতি মুহুর্তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে চলেছেন। ইস্তিগফার করেই যাচ্ছেন, করেই যাচ্ছেন। তিনি কৌতুহলী হয়ে রুটি বিক্রেতার কাছে জানতে চাইলেন, “তোমার এই আমলের কোন বিশেষ প্রতিদান পেয়েছো কি?”। রুটি বিক্রেতা জবাব দিলেন, ” আল্লাহ আমার সকল দু’আ কবুল করেছেন, কিন্তু একটি দু’আ এখনো কবুল হয়নি।” ইমাম আহমদ আশ্চর্যান্বিত হয়ে জানতে চাইলেন যে তার কোন দু’আটি এখনো কবুল হয়নি। লোকটি উত্তর করল, “আমি বিখ্যাত আলেম ইমাম আহমদের সাক্ষাৎ লাভের দু’আ করেছি যা এখনো আল্লাহ কবুল করেননি।”

ইমাম আহমদ জবাবে বললেন , “আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমার দুআ শুনেছেন এমনকি তিনি ইমাম আহমদকে টেনে হিঁচড়ে তোমার দরজায় এনে উপস্থিত করেছেন, আমিই সেই লোক যাকে তোমরা ইমাম আহমদ নামে জান”। [সংক্ষেপিত , আল জুমুয়া ম্যাগাজিন, ভলিউম-১৯, ইস্যু-৭]

এই ঘটনাটি ইস্তেগফারের ক্ষমতা ও গুরুত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিনে সত্তরবারেরও অধিক ইস্তেগফার করতেন।

তাফসীর আল কুরতুবীতে উল্লেখিত, একজন লোক আল-হাসানের নিকট খরা-অনাবৃষ্টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তাকে বললেন, “আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো”। আরেক ব্যক্তি তার দারিদ্রের কারণে অনুযোগ করলে তিনি তাকে উপদেশ দিলেন,”আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো”। অন্য একজন ব্যক্তি এসে জানতে চাইলো, “আল্লাহ যেন আমাকে একটি সন্তান দানে ধন্য করেন”। তিনি তাকেও বললেন,”আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো”। অপর এক ব্যক্তি এসে বললো যে তার বাগানে ফসল হচ্ছে না। তিনি তাকে উপদেশ দিলেন, “আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো”। তার নিকট এর ব্যাখা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এটা আমার মনগড়া মতামত নয়, কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা নূহে এরশাদ করেন, ” তোমরা তোমাদের মালিকের দুয়ারে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিসন্দেহে আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর অঝোর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দিয়ে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্যে বাগ-বাগিচা ও উদ্যান স্থাপন করবেন, তিনি এখানে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সূরা নূহঃ১০-১২) । তাফসীর আল-কুরতুবী (১৮/৩০১-৩০২)

একজন হাদীসের বর্ণনাকারীর নিকটে জানতে চাওয়া হল, কিভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা হবে, ইস্তেগফারের আদব কি হবে, এর উত্তরে তিনি বললেন, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ!’, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ!’ (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই)” । [সহীহ মুসলিম]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *