শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / আমি একজন মুসলিম নারী। আমি নিয়মিত তারাবী সালাত আদায় করি। আমি যদি ….

আমি একজন মুসলিম নারী। আমি নিয়মিত তারাবী সালাত আদায় করি। আমি যদি ….

আমি একজন মুসলিম নারী। আমি নিয়মিত তারাবী সালাত আদায় করি। আমি যদি সালাত আদায় করতে মসজিদে না যাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমার ছোট ভাই সেও মসজিদে যায় না। মসজিদে গেলে আমরা ইমামের সাথে বিতিরের সালাত আদায় করি। আমি শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় ও কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলেছি। তবে বিতিরের সালাত আদায় করার পর তো আর তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতে পারি না। এখন আমার ক্ষেত্রে কোনটি বেশি ভাল? তারাবীর সালাত আদায় করতে মসজিদে যাওয়া যাতে আমার ভাই মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করতে পারে। নাকি বাসায় থেকে শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করা। এই দুইটির মধ্যে কোনটিতে বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে


সমস্ত  প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আপনার মসজিদে যাওয়া, তারাবী নামাযের জামাতে উপস্থিত হওয়া, মুসলিম বোনদের সাথে দেখা-সাক্ষাত করা ইত্যাদি সবই ভাল আমল; আলহামদুলিল্লাহ। এবং আপনার ভাইকে ভাল কাজে সহায়তা করা এটা আরো একটি ভাল আমল। আপনার এই আমলগুলো পালন করা ও শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করার মাঝে তো কোন সংঘর্ষ নেই। আপনার পক্ষে এ ফজিলতপূর্ণ কাজগুলোর মাঝে সমন্বয় করা সম্ভব। 

এ ক্ষেত্রে দুটো পদ্ধতি হতে পারে:

প্রথমত : আপনি ইমামের সাথে বিতিরের নামায আদায় করে ফেলবেন। তারপর দুই রাকাত রাকাত করে আপনার সুবিধামত যত রাকাত সম্ভব তাহাজ্জুদ নামায আদায় করে নিবেন। তবে বিতিরের সালাত পুনরায় পড়বেন না। কারণ এক রাতে দুইবার বিতির পড়া যায় না।   

দ্বিতীয়ত : আপনি বিতিরের নামায শেষ রাতের জন্য রেখে দিবেন। অর্থাৎ ইমাম যখন বিতিরের সালাত আদায় শেষে সালাম ফিরাবেন তখন আপনি সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং অতিরিক্ত এক রাকাত যোগ করবেন যাতে শেষ রাতে আপনি বিতির আদায় করতে পারেন। 

শাইখ ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল: ইমাম বিতিরের সালাত আদায় শেষ করলে কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে যায় এবং অতিরিক্ত এক রাকাত যোগ করে যাতে শেষ রাতে তিনি বিতির পড়তে পারেন। এই আমলের হুকুম কি? এতে কি তিনি “ইমামের সাথে সালাত সম্পন্ন করেছেন” ধরা যাবে? তিনি উত্তরে বলেন: “আমরা এতে কোন দোষ দেখি না। আলমগণ  এটা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন। তিনি এটা করেন যেন বিতির (বেজোড়) নামাযটা শেষ রাতেই আদায় করতে পারেন। তাঁর ক্ষেত্রে এ কথা বলাও সত্য হবে যে, ইমাম শেষ করা পর্যন্ত তিনি ইমামের সাথে নামায আদায় করেছেন কারণ ইমামনামায শেষ করা পর্যন্ত তিনি তো ইমামের সাথে ক্বিয়াম করেছে এবং এরপর তিনি এক রাকাত যোগ করেছে অন্য একটি শরয়ি কল্যাণের কারণে। সেটা হলো- বিতির (বেজোড়) নামাযটা যাতে শেষ রাতে আদায় করা যায়। তাই এতে কোন সমস্যা নেই। অতিরিক্ত এ রাকাতের কারণে এ ব্যক্তি যারা ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত নামায পড়েছেন তাদের দল থেকে বের হয়ে যাবে না। বরং তিনি তো ইমামের সাথে সম্পূর্ণ নামায আদায় করেছেন। তবে ইমামের সাথে নামায শেষ করেননি; কিছুটা বিলম্বে শেষ করেছেন। ” সমাপ্ত
[মাজমূ ফাতাওয়া  ইবনে বায ( ১১/৩১২) ] 

শাইখ ইবনে জিবরীন হাফিজাহুল্লাহকে এই প্রশ্নের মত একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল, উত্তরে তিনি বলন: “মুক্তাদির ক্ষেত্রে উত্তম হল ইমামের অনুসরণ করা,যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি তারাবী ও বিতি নামায শেষ করেন যাতে করে তার ক্ষেত্রে এই কথা সত্য হয় যে তিনি ইমামের সাথে ইমাম শেষ করা পর্যন্তসালাত আদায় করেছেন এবং তার জন্য সারারাত ক্বিয়াম করার সওয়াব লেখা হয়; যেমনটি ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য আলমগণ হাদিস রেওয়ায়েত করেছেন ”    

এর উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, যদি তিনি তাঁর (ইমামের) সাথে বিতি নামায আদায় করে তবে শেষ রাতে বিতি নামায আদায় করার প্রয়োজননেই। যদি তিনি শেষ রাতে উঠে তবে তিনি তার জন্য যত রাকাত সম্ভব তা জোড় সংখ্যায় (অর্থাৎ দুই দুই রাকাআত করে) আদায় করবে। বিতিেরপুনরাবৃত্তি করবে না, কারণ এক রাতে দুইবার বিতির হয় না।

আর কিছু আলম ইমামের সাথে বিতিরকে জোড় বানিয়ে (অর্থাৎ এক রাকাত যোগ করে) পড়াকে উত্তম হিসেবে গণ্য করেছেন। তা হল এভাবে যে ইমাম সালাম ফিরানো শেষে তিনি অতিরিক্ত এক রাকাত সালাত আদায় কর তারপর সালাম ফিরাবে এবং বিতিের নামায শেষরাতে তাহাজ্জুদের সাথে পড়ার জন্য রেখে দিবে । এর দলীল হচ্ছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী :

 ( فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمْ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى ) “

আপনাদের মধ্যে কেউ ফজর হয়ে যাওয়ার আশংকা করলে আদায় করা সালাতের সাথে এক রাকাত বিতির পড়ে নিবেন।

তিনি আরও বলেছেন :

 ( اجْعَلُوا آخِرَ صَلاتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا

আপনারা বিতিরের (বেজোড়ের) মাধ্যমে আপনাদের রাতে সালাত সমাপ্ত করুন” সমাপ্ত [ফাতাওয়া রমজান (পৃঃ ৮২৬)]

আল-লাজ্‌নাদ-দায়িমা দ্বিতীয় ব্যাপারটিকে উত্তম বলে ফতোয়া  দিয়েছে।

[ফাতাওয়াল্‌ লাজনাহ আদ্‌দায়িমা (ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র) (৭/২০৭)] 

আমরা আল্লাহর কাছে আপনার জন্য তাওফিক ও দ্বীনি অটলতার দোয়া করছি। আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

Check Also

সম্মানিত শায়খ! আশা করি তাকদীরের মাসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত ….

সম্মানিত শায়খ! আশা করি তাকদীরের মাসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। মানুষের মূল কাজ কি পূর্ব ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *