শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / আযান ও ইকামতের ক্ষেত্রে রসূল (সাঃ) এর সুন্নাত

আযান ও ইকামতের ক্ষেত্রে রসূল (সাঃ) এর সুন্নাত

নাবী (সাঃ) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তারজীসহ  এবং তারজী ছাড়া- এ দু’টি পদ্ধতিতেই আযান দেয়া সুন্নাত হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন।[1] একামতের শব্দগুলো একবার করে বলা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তবে দুইবার করে অর্থাৎ আযানের ন্যায় বলাও জায়েয আছে।[2] (কিন্তু একবার করে বলার হাদীসগুলোর সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে)। তবে قد قامت الصلاة ‘কাদকামাতিস সালাহ’ বাক্যটি একবার বলা মোটেও প্রমাণিত নয়। এমনিভাবে আযানের শুরুতে চারবার আল্লাহু আকবার বলা সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, দুইবার বলাকে যথেষ্ট মনে করা সহীহ নয়। তিনি উম্মাতের জন্য আযানের সময় এবং আযানের পরে পাঁচ পদ্ধতির দু’আ নির্ধারণ করেছেন।

প্রথম দুআঃ আযান শ্রবণকারী মুআযযিনের সাথে সাথে আযানের শব্দগুলোই উচ্চারণ করবে। তবে হাইয়্যা আলাসসালাহ, হাইয়্যা আলাল্ ফালাহ বলার সময় বলবেঃ لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إلاَّبِاللهِ ‘লা-হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত গুনাহ হইতে বিরত থাকা সম্ভব নয় এবং আল্লাহর আনুগত্য করার ক্ষমতা লাভ করা যায় না। শ্রোতার জন্য حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ এবং  لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إلاَّبِاللهِ– এর উভয়টি একসাথে বলার বিষয়টি নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত হয়নি। তেমনি শুধু মুআযযিনের সাথে  حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ বলাকেই যথেষ্ট মনে করার বিষয়টিও প্রমাণিত নয়। এটিই যুক্তি সম্মত। কারণ আযানের বাক্যগুলো হচ্ছে যিকির।   حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِবাক্যদ্বয় দ্বারা সলাতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। তাই শ্রোতার জন্য সুন্নাত হচ্ছে সে আহবানে সাড়া দেয়ার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাইবে অর্থাৎ لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إلاَّبِاللهِ বলবে, যার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত অন্যায় কাজ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় এবং তাঁর তাওফীক ব্যতীত সৎকাজে যোগদান করা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয় দুআঃ শ্রোতার জন্য এই দু’আটি পাঠ করাও সুন্নাত। নাবী (সাঃ) বলেন- যে ব্যক্তি ইহা পাঠ করবে তার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। দু’আটি হচ্ছেঃ        

رَضِيْتُ بِاللهِ ربًّا وبالإسلاَمِ دِيْناً وبِمُحَمَّدٍ نَبِيّاً وَرَسُوْلاً

‘‘আমি সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করেছি আল্লাহ্কে প্রভু হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) কে নাবী ও রসূূল হিসেবে’’।

তৃতীয় দুআঃ মুআযযিনের উত্তর দেয়ার পর নাবী (সাঃ)-এর উপর দুরূদ ও সালাম পেশ করবে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ দুরূদ হচ্ছে, যা তিনি তাঁর উম্মাতকে শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছে দুরূদে ইবরাহীম, যা আমরা সলাতে পাঠ করি।

চতুর্থ দুআঃ রসূল (সাঃ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করার পর এই দু’আটি পাঠ করবে।  ্র

اللّٰهُمَّ  رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ القَائِمَةِ آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيْلَةَ وَ الفَضِيْلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُوْداً الَّذِيْ وَعَدْتَهُ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা রাববা হাযিহিদ্ দাওয়াতিত্ তা’ম্মাতি ওয়াস্ সালাতিল কায়িমাহ। আ’তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলাহ। ওয়াব্আসহু মাকামাম মাহমূদানিল্লাযি ওয়াআদ্ তাহু।

‘‘হে আল্লাহ্ এই পরিপূর্ণ আহবান এবং এই প্রতিষ্ঠিত সলাতের তুমিই প্রভূ। মুহাম্মাদ (সাঃ)কে দান কর সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান এবং সুমহান মর্যাদা। তাuঁক প্রতিষ্ঠিত কর প্রশংসিত স্থানে যার অঙ্গীকার তুমি তাঁকে দিয়েছো। তার জন্য কিয়ামত দিবসে আমার শাফাআত আবশ্যক হয়ে যাবে’’।

পঞ্চম দুআঃ তারপর নিজের জন্য দু’আ করবে। সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল (সাঃ) বলেন- আযান ও ইকামতের মাঝখানে দু’আ ফেরত দেয়া হয় না। সাহাবীগণ বললেন- হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাতে কি বলব? তিনি বললেন- দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা কর। অর্থাৎ দুনিয়ার সকল বিপদ যেমনঃ রেসূ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট এবং আখিরাতের শাস্তি থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা কর। এই হাদীসটি সহীহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *