শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

hanafi

ডাউনলোড করুন(Islamic Win Server)Link-1

ডাউনলোড করুন(Openload)Link-2

* নাম, উপনাম ও বংশ : নাম নু‘মান, উপনাম আবু হানীফা।
বংশনামা : “নু‘মান বিন ছাবিত বিন যুত্বাই আল খায্যায আল কুফী।৪৮
তিনি কাপরের ব্যবসায়ী ছিলেন, তাই আল খায্যায বলে পরিচিত এবং
তিনি কুফা নগরীতে জন্মলাভ করেছেন ও সেখানে জীবন-যাপন করেছেন
এজন্য আল-কুফী বলে পরিচিত। বংশগতভাবে তিনি আত্-তাইমী, অর্থাৎ
তাঁর দাদা “যূত্বাই” রাবীয়া বংশের উপগোত্র বনী তাইমিল−াহ বিন
ছা‘লাবার অধিনস্ত ছিলেন, এ সূত্রেই তিনি বংশগতভাবে আত্-তাইমী বলে
পরিচিত।জম্ন ও প্রতিপালন : বিশুদ্ধ মতে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) কুফা
নগরীতে ৮০ হিঃ সনে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি কুফা নগরীতে প্রতিপালিত
হন এবং জীবনের শুরুতেই তিনি গার্মন্টেস ব্যবসায় পেশা হিসাবে গ্রহণ
করেন এবং সততার সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করায় তিনি জনপ্রিয়তা
অর্জন করেন।
শিক্ষা জীবন : ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) জীবনের প্রাথমিক পর্যায়
ব্যবসায়ী কর্মে আত্মনিয়োগ করেন, শিক্ষা-দিক্ষায় মনোনিবেশ হননি।
ইমাম শা‘আবী (রহ.)-এর সাথে সাক্ষাত ঘটলে তাঁর পরামর্শে তিনি
শিক্ষামুখী হন। ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) নিজেই বলেন : “আমি একদিন
ইমাম শা‘আবীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি আমাকে ডাকলেন এবং
বললেন, তুমি কার কাছে যাচ্ছ? আমি তাকে উস্তায সম্বোধন করে বললাম
যে, আমি বাজারে যাচ্ছি। ইমাম শা‘আবী (রহ.) বললেন : “তোমার
বাজারে যাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করিনি, আমি জিজ্ঞাসা করলাম কোন
আলিমের কাছে যাচ্ছ?” জবাবে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বললেন,
“আসলে আলিমদের সাথে আমার যোগাযোগ খুবই কম।” ইমাম শা‘আবী
(রহ.) বললেন : “না তুমি এরূপ করো না, বরং তুমি শিক্ষামুখী হও এবং
আলিমদের সাথে উঠাবসা শুরু কর, কারণ আমি তোমার মাঝে ভাল
আলামত দেখছি।” ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বলেন : ইমাম শা‘আবীর এ
উপদেশ আমার হৃদয়ে রেখাপাত করল, ফলে আমি বাজারে যাওয়া বন্ধ
করলাম এবং জ্ঞান গবেষণামুখী হলাম। আল−াহ তা‘আলা তাঁর উপদেশের
মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করেছেন।
এভাবেই আবূ হানীফা (রহ.) শিক্ষা জীবন শুরু করেন। শিক্ষা জীবন
শুরু করে তিনি কালাম শাস্ত্র ও তর্কবিদ্যা শিক্ষালাভ করে ভ্রান্ত মতবাদের
প্রতিবাদে তর্ক সংগ্রাম চালিয়ে তার্কিক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। কিন্তু
এ তর্ক চর্চা কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকাহ্ শাস্ত্রে বিঘœতা সৃষ্টি করলে তর্ক চর্চা
বর্জন করে কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকাহ্ চর্চায় মনোনিবেশ করেন।৫২
ইমাম আবূ হানীফার (রহ.) শিক্ষকবৃন্দ : ইমাম আবূ হানীফা
(রহ.) ছোট বয়সে দু’একজন সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেন, যেমন-

আনাস বিন মালিক <, কিন্তু তাদের কাছ থেকে তেমন কিছু শিক্ষা গ্রহণ
করতে পারেননি, কারণ তিনি প্রাথমিক যুগে ব্যবসায়ী কর্মে নিয়োজিত
ছিলেন, অতঃপর ইমাম শা‘আবীর অনুপ্রেরণায় দ্বীন শিক্ষায় আন্তনিয়োগ
করেন।৫৩ ইমাম আল মিয্যী (রহ.) ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) যাদের
কাছে শিক্ষালাভ করেছেন তাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে মোট পঞ্চাশ জন
শাইখ এর নাম উলে−খ করেন। নিম্নে তাদের প্রসিদ্ধ কয়েক জনের নাম
উলে−খ করা হল :
১. হাম্মাদ বিন আবী সুলাইমান আল আশ্য়ারী (রহ.)।
২. যায়িদ বিন আলী আল হাশেমী (রহ.)।
৩. ইমাম আতা বিন আবী রাবাহ আল কারশী (রহ.)।
৪. আবদুল মালিক বিন আবিল মাখারিক আল মাসরী (রহ.)।
৫. আদী বিন ছাবিত আল আনসারী (রহ.)।
৬. ইমাম কাতাদাহ বিন দা’য়ামাহ আস সাদুসী (রহ.)।
৭. মুহাম্মদ বিন আলী আল হাশেমী (রহ.) ইত্যাদি।
ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর ছাত্রবৃন্দ : ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) হতে অনেক গুণীজন দ্বীনী জ্ঞান শিক্ষা লাভ করেন। ইমাম মিয্যী
(রহঃ ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর ছাত্রদের বর্ণনা দিতে গিয়ে সত্তর
জনের নাম উলে−খ করেন।

নিম্নে তাদের প্রসিদ্ধ কয়েক জন :
১. জারীর বিন আবদুল হামীদ আল কুফী (রহ.)।
২. হাম্মাদ বিন আবী হানীফাহ আল কুফী (রহ.)।
৩. আল হাকাম বিন আব্দুল−াহ আল বালখী (রহ.)।
৪. ইমাম আব্দুল−াহ বিন মুবারক আল হানযালী (রহ.)।
৫. ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান আশ্শায়বানী (রহ.)।
৬. ইমাম নূহ বিন আবী মারয়াম আল মারওয়াযী (রহ.)।
৭. ইমাম ইয়াকুব বিন ইবরাহীম আবূ ইউসূফ আল কাযী (রহ.)
ইত্যাদি।

জ্ঞান গবেষণায় ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) : ইমাম কাবীসাহ বিন
উকবাহ (রহ.) বলেন : “ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) প্রথম পর্যায়ে
তর্কবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে বিদ‘আতী বাতিল পন্থীদের সাথে তর্কে লিপ্ত হন,
এভাবে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী তার্কিকে পরিণত হন। অতঃপর তিনি তর্কচর্চা
বর্জন করে ফিকাহ্ ও সুন্নাহ চর্চায় লিপ্ত হন এবং একজন ইমামে পরিণত
হন।
ফিকাহ্ শাস্ত্রে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) : ফিকাহ্ শাস্ত্রে আবূ
হানীফা (রহ.)-এর অবস্থান ও অবদান সম্পর্কে বলার অপেক্ষা রাখেনা,
কারণ তিনি ফিকাহ্ শাস্ত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ইমাম সাহেবের অন্যতম
ছাত্র ইমাম আব্দুল−াহ ইবনু মুবারক (রহ.) বলেন, “ইমাম আবূ হানীফা
(রহ.) স্বীয় যুগে ফিকাহ্ শাস্ত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তি ছিলেন”। তিনি সমযুগে
প্রসিদ্ধ তাবেঈ যেমন- আত্বা বিন রাবাহ, নাফি, মাওলা ইবনু ওমার ও
কাতাদাহ প্রভৃতি তাবেঈদের (রাহিমাহুমুল−াহ) হতে ফিকাহ্ শাস্ত্রে পণ্ডত্ব
অর্জন করেন।৫৭ তাঁর হতেও অসংখ্য জ্ঞানপিপাসু ফিকাহ্ শাস্ত্র শিক্ষা লাভ
করেন। তাবে ফিকাহ্ শাস্ত্রে ইমাম সাহেবের উলে−খযোগ্য কোন রচিত গ্রন্থ
পাওয়া যায় না।
উলে−খ্য যে, ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) ফিকাহ্ শাস্ত্রে পাণ্ডিত্ব অর্জন
করেন এবং বহু জ্ঞান পিপাসুকে ফিকাহ্ শিক্ষাদান করেন, কিন্তু প্রচলিত
সমাজে যেমন- ইমাম সাহেবের বরাত দিয়ে প্রকাশ্য হাদীসকে বর্জন করে
ফিকাহ্কে প্রাধান্য দেয়া হয়। ইহা কখনও ইমাম সাহেবের স্বভাব নয় এবং
মাযহাবও নয়। “সুন্নাতে রাসূল @ অনুসরণে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-
এর অবস্থান” পরিচ্ছেদে আমরা এ বিষয়টি প্রমাণসহ আলোকপাত করব
ইন্শাআল−াহ।
হাদীস শাস্ত্রে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) : ইমাম আবূ হানীফা
(রহ.) একশত হিজরীর পরে অর্থাৎ তাঁর বিশ বছর বয়সের পর তিনি
হাদীস শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন এবং অনেক প্রসিদ্ধ আলিম হতে হাদীস
শিক্ষালাভ করেন।৫৮ কিন্তু হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা খুবই নগন্য।
এর দুটি কারণ হতে পারে,
প্রথম কারণ : তিনি হাদীস বর্ণনায় কঠোরতা অবলম্বন করতেন,
অর্থাৎ হাদীস বর্ণনাকারীর পূর্ণ মুখস্ত বর্ণনাকেই শুধু মেনে নিতেন। ইমাম
ইবনু সালাহ (রহ.) বলেন :

“হাদীস বর্ণনায় একশ্রেণীর মানুষ কঠোরতা অবলম্বন করে সীমালঙ্ঘন
করেছেন, আবার আরেক শ্রেণী শিথিলতা অবলম্বন করে সীমালঙ্ঘন
করেছেন। কঠোরতার মধ্যে হল, যারা মনে করেন যে, বর্ণনাকারীর শুধু
মুখস্ত বর্ণিত হাদীস ছাড়া অন্য হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না,
ইহা ইমাম মালিক ও ইমাম আবূ হানীফার মত।
দ্বিতীয় কারণ : ইমামের হাদীস বর্ণনা কম হওয়ার অপর কারণ হলো
তিনি মাসআলা-মাসায়েলের গবেষণায় বেশী ব্যস্ত থাকতেন। হাদীস
বর্ণনার সুযোগ হত না।
উকূদুল জিমান গ্রন্থের লিখক বলেন,

“ইমাম সাহেবের বিভিন্ন দলীলের মাসআলার গবেষণায় ব্যস্ততার
দরুন হাদীস বর্ণনা কমে গেছে, যেমন- প্রসিদ্ধ সাহাবী আবূ বকর, ওমার
< সহ অনেকেই প্রচুর জানা-শুনা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কাজে ব্যস্ততার
দরুন হাদীস বর্ণনা করতে পারেন নি।

অবশ্য এ ব্যস্ততার কারনে তিনি হাদীস সংরক্ষণেও তেমন গুরুত্ব
দিতে পারেননি। ইমাম যাহাবী (রহ.) বলেন,

“ইমাম সাহেব হাদীসের শব্দ ও সনদ বা সূত্র রপ্ত ও যব্ত করণে
গুরুত্ব দিতে পারেননি, তাঁর গুরুত্ব ছিল কুরআন ও ফিকাহ্ শাস্ত্রে, বস্তুতঃ
সকল ব্যক্তির এমনই অবস্থা হয়, এক বিষয়ে গুরুত্ব দিলে অপর বিষয়
ঘাটতি হয়ে যায়।
ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর নামে কিছু হাদীসের সংকলন উলে−খ
করা হয় এবং বলা হয় এগুলি ইমাম আবূ হানীফার (রহ.)। মূলতঃ ওই
সব ইমাম সাহেবের সংকলন নয় বরং তাঁর অনেক পরে সেগুলি সংকলন
করে তাঁর নামে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।আল−ামাহ শাহ্ আবদুল আযীয
দেহলবী হানাফী (রহ.) বলেন :

“বরং সে গ্রন্থগুলো অনেক পরে বিভিন্নজন সংকলন করেছেন।”৬৩
ইমাম ইবনু হাজার আসকালামী (রহ.) বলেন :
“অনুরূপ মুস্নাদ আবী হানীফাহ ধারণা করা হয় ইহা ইমাম আবূ
হানীফার সংকলন, আসলে তা নয়……।
অতএব বলা যেতে পারে যে, ইমাম আবূ হানীফার নামে হাদীসের যে
গ্রন্থগুলি উলে−খ করা হয় সেগুলি হয়তবা ইমাম আবূ হানীফা হতে তাঁর
ছাত্ররা শিক্ষালাভের পর যে হাদীসগুলি সংকলন করে তাঁর নামে প্রকাশ
করেছেন, অথবা অতি ভক্তির কারণে নিজের সংগৃহীত হাদীস তাঁর নামে
সংকলন করে প্রকাশ করা হয়েছে, ওয়াল‘আলাম।
সঠিক আক্বীদা বিশ্বাসে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) : ইমাম আবূ
হানীফা (রহ.) বাতীল আক্বীদা পোষণকারী জাহমিয়া, মুরযিয়া, মুতাযিলা
ইত্যাদি সম্প্রদায়গুলির সাথে তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন, হক প্রতিষ্ঠায়
বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল
জামাআতের সঠিক আক্বীদা-বিশ্বাসে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। প্রায়
সকল মাসআলায় তিনি একমত শুধু ঈমানের সংজ্ঞা, হ্রাসবৃদ্ধি বিষয়ে
ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আল−াহ তা’আলার স্ব-সত্ত্বায় সর্বত্র বিরাজমান না
হওয়া বরং আরশে সমুন্নত হওয়া এবং নিরাকার না হওয়া বরং তাঁর সুস্পষ্ট
গুণাবলী সাব্যস্ত করাই হলো ইমামের আক্বীদা বিশ্বাস। কিন্তু দুঃখের বিষয়
যে, আজ যারা ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর মাযহাবের দুহাই দেয়,
তারাই আবার ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর বিপরীত আক্বীদাহ-বিশ্বাস
পোষণ করে। প্রকৃতপক্ষে তারা ইমাম আবূ হানীফার ফতোয়া অনুযায়ী
মুসলমান থাকতে পারে না। কারণ- ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বলেন, “যে
বিশ্বাস করে না যে আল−াহ স্ব-সত্ত্বায় আরশের উপরে আছেন (অর্থাৎ বিশ্বাস
করে যে, আল−াহ স্ব-সত্ত্বায় সর্বত্র বিরাজমান) সে কাফির।
ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর আক্বীদাহ বিষয়ক পাঁচটি গ্রন্থ রয়েছে
বলে উলে−খ করা হয়। প্রকৃত পক্ষে এগুলো ইমাম সাহেবের প্রতি শুধু
সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তিনি এগুলো লিখেন নি। তবে “ফিক্হুল আকবার”
নামে যে গ্রন্থটি ইমামের ছেলে হাম্মাদ (রহ.)-এর সনদে, সেটি
অধিকাংশের মতে ইমাম সাহেবের সংকলন। মূল কথা
ইমাম সাহেবের নিজের রচিত হোক বা তাঁর থেকে শুনে হাম্মাদের রচনা
হোক সর্বাবস্থায় প্রমাণ করে যে, ইমাম সাহেবের এবং তাঁর ছেলে হাম্মাদ
সঠিক আক্বীদাহ বিশ্বাসের উপর ছিলেন, যা হতে বর্তমানের হানাফী সমাজ
পদস্খলিত হয়ে গেছে। আল−াহ আমাদের সকলকে কুরআন ও সহীহ
হাদীসের আলোকে সঠিক আকীদার উপর থাকার তাওফীক দান করুন।
আমীন!

ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) সম্পর্কে আলিম সমাজের
প্রশংসা : ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর ব্যক্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনায়
অনেকেই প্রশংসা করেছেন, যেমন-
১. ইমাম আহমাদ বিন হামল (রহ.) বলেন : “ইমাম সাহেব শিক্ষা,
আল−াহ ভীরুতা ও আখিরাতমুখী হিসাবে এক বিশেষ অবস্থানে
ছিলেন। আবূ জাফর আল মানসুরের কাজী বা বিচারকের পদ
গ্রহণের জন্য তাঁকে প্রহার পর্যন্ত করা হয়েছে তবুও তিনি তা
গ্রহণ করেননি, আল−াহ তাকে বিশেষ রহম করুন।
২. ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন : “যদিও মানুষেরা ইমাম
আবূ হানীফার কিছু বিষয়ে বিরোধিতা করেছেন এবং অপছন্দ
করেছেন, কিন্তু তাঁর জ্ঞান ও বিবেক-বুদ্ধিতে কারো কোনরূপ
সন্দেহ নেই।
৩. ইমাম যাহাবী (রহ.) বলেন : “ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)
একজন বিশিষ্ট আলিম, গবেষক, সাধক ও ইমাম ছিলেন। তিনি
বড় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন, রাজা-বাদশাহ্দের কোন
পুরস্কার গ্রহণ করতেন না।
ইমামের মৃত্যুবরণ : মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী ইমাম আবূ হানাফী
(রহ.) ১৫ই শাবানে ১৫০ হিঃ, ৭০ বছর বয়সে পরপারে পাড়িজমান, এবং
বাগদাদের গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আল−াহ তাঁকে রহম করুন
এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন। আমীন!