শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / ইস্তেঞ্জা করার পর ঢিলা কুলুখ ব্যাবহার করা কী সুন্নত ?

ইস্তেঞ্জা করার পর ঢিলা কুলুখ ব্যাবহার করা কী সুন্নত ?

আযীযুল হক


প্রশ্নঃ ইস্তেঞ্জা করার পর ঢিলা কুলুখ ব্যাবহার করা কী সুন্নত ? যদি সুন্নত হয় তবে দলীল সহকারে জানাবেন, তাহলে অনেক উপকার হবে প্লিজ

بسم الله الرحمن الرحيم

উত্তরঃ যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করাকে পছন্দ করে তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, وفيه رجال يحبون ان يتطهروا والله يحب المطهرين অর্থঃ-“তাতে (অর্থাৎ মসজিদে কুবায়) এমন লোক আছে যারা উত্তম রুপে পবিত্রতা অর্জন করাকে ভালোবাসে। এবং উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জনকারিদেরকে আল্লাহ ভালোবাসেন”।(সূরা তাওবা, আয়াত নং১০৮)
আর যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করেনা তাদের ব্যাপারে হাদীছে কঠিন হুশিয়ারী বর্নিত হয়েছে।

عن ابن عباس، قال: مر النبي صلى الله عليه وسلم بحائط من حيطان المدينة، أو مكة، فسمع صوت إنسانين يعذبان في قبورهما، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «يعذبان، وما يعذبان في كبير» ثم قال: «بلى، كان أحدهما لا يستتر من بوله، وكان الآخر يمشي بالنميمة».

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনার কিংবা মক্কার কোন গলি অতিক্রম করছিলেন তখন দুই ব্যক্তির চিৎকার শুনতে পেলেন, যাদেরকে কবরে শাস্তি প্রদান করা হচ্ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাদের দুজনকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। বড় কোন গুনাহের কারনে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তারপর বললেন,হ্যাঁ এটা তোমাদের দৃষ্টিতে বড় নয় কিন্তু আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে তা বড় পাপ (কবীরা গুনাহ)। তাদের একজন ছিল এমন যে, সে প্রস্রাবের ফোটা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। অপরজন চগোলখুরী করে বেড়াতো। (বুখারী শরীফ ১/৩৫)
অপর হাদীসে এসেছে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত,

عن أبي هريرة , أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «استنزهوا من البول فإن عامة عذاب القبر منه» ـ سنن الدارقطني ، باب نجاسة البول والأمر بالتنزه منه والحكم في بول ما يؤكل لحمه

অর্থঃ- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা প্রস্রাবের ফোটা থেকে সতর্কতা অবলম্বন কর, কেননা কবরের অধিকাংশ শাস্তি এ কারণেই হয়ে থাকে।(সুনানে দারাকুতনি)

ইস্তেঞ্জার সুন্নত হলো, প্রথমে ঢিলা কুলুখ ব্যাবহার করবে, এরপর পানি ব্যাবহার করবে। যদি কেউ ঢিলা কুলুখ ব্যবহার না করে শুধু পানি ব্যবহার করে এবং তার দ্বারা পূর্ণাঙ্গরূপে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা হাসিল হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই। হাদীসে বর্নীত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে পাথর (অর্থাৎ ঢিলা কুলুখ) ব্যাবহার করে সে যেন বেজোড় পাথর ব্যাবহার করে। যে ব্যক্তি তা করলো সে অনেক উত্তম কাজ করলো। যে পাথর ব্যাবহার বেজোড় করলনা তাতে কোন গুনাহ নেই।

এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে পুরুষদের প্রস্রাব করার ক্ষেত্রে ঢিলা-কুলুখ বা টিস্যু ব্যাবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেননা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষ্য মতে তা পুরুষদের পূর্ণপ্রস্রাব বন্ধ হওয়ার জন্য খুবই কার্যকরী।

প্রামাণ্য গ্রন্থাবলীঃ
১। সূরা তাওবা, ১০৮
২। সহীহ বুখারী ১/৩৫
২। সুনানে দারাকুতনী হাদীস নং ৪৬৪
৪। সুনানে তিরমিযী ১/১৪
৫।নূরুল ইজাহ ৪৫
والله اعلم بالصواب

উত্তর প্রদানে                .
ইফতা বিভাগ               .
জামিয়াতুল আসআদ আল ইসলামিয়া.

.                সত্যায়ন                                          সত্যায়ন ও সার্বিক তত্তাবধানে
.    মুফতী আব্দুল হাসিব দা. বা.                                   মুফতী হাফীজুদ্দীন দা. বা.
.                 মুফতী                                                      প্রধান মুফতী
জামিয়াতুল আসআদ আল ইসলামিয়া                        জামিয়াতুল আসআদ আল ইসলামিয়া

ইমেইল-jamiatulasad@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *