শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / কারও নাম বা উপনাম আবুল কাসেম রাখা

কারও নাম বা উপনাম আবুল কাসেম রাখা

যার সন্তান ছিল এবং যার ছিল না তাদের সকলেরই কুনিয়ত তথা উপনাম রাখা তাঁর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। শুধু আবুল কাসেম ব্যতীত তিনি অন্য যে কোন উপনাম রাখতে নিষেধ করেন নি। তাই এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ বলেছেন এই উপনাম যেহেতু রসূল (সাঃ)-এর ছিল, তাই অন্যদের জন্য এটি রাখা জায়েয নয়। অন্যরা বলেছেন- রসূল (সাঃ) এর নাম ও কুনিয়ত এক সাথে রাখা যাবে না। এ ব্যাপারে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী সেটিকে সহীহ বলেছেন। আবার কতক আলেম বলেছেন- তাঁর নাম ও কুনিয়ত এক সাথে রাখতে মানা নেই। কেননা এ ব্যাপারে আলী (রাঃ) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আলী (রাঃ)  রসূল (সাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন- হে আল্লাহর রসূল! আপনার পরে যদি আমার কোন ছেলে সন্তান হয় তাহলে আমি কি আপনার নামে তার নাম এবং আপনার কুনিয়াতেই তার কুনিয়ত রাখতে পারি? তিনি বললেন- হ্যাঁ, রাখতে পার। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এটিকেও সহীহ বলেছেন। কেউ বলেছেন- রসূল (সাঃ) এর জীবদ্দশায় তাঁর কুনিয়ত গ্রহণ করা নিষিদ্ধ ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর জায়েয।

সঠিক কথা হচ্ছে, রসূল (সাঃ) এর কুনিয়ত গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। তার জীবদ্দশায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এমনিভাবে নাম ও কুনিয়ত একসাথে রাখাও নিষিদ্ধ। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। ইমাম তিরমিযী হাদীস সহীহ বলার ক্ষেত্রে সামান্য উদারতা দেখিয়েছেন। আলী (রাঃ) বলেন- রসূল (সাঃ) তাকে অনুমতি দিয়েছেন। এ থেকে বুঝা যায় যে, অনুমতিটি শুধু তার জন্যই নির্দিষ্ট ছিল; অন্যদের জন্য নিষিদ্ধতা এখনও বলবৎ রয়েছে। আর আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসঃ কে আমার নামে নাম রাখাকে হালাল করল? আর কে আমার কুনিয়তকে হারাম করল? এটি একটি গরীব (যঈফ হাদীস)। সহীহ হাদীছের মুকাবেলায় এটি দলীল হতে পারেনা।

সালাফদের একটি দল আবু ঈসা কুনিয়ত রাখাকে অপছন্দ করেছেন।[1] অন্য একটি দল অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম আবু দাউদ যায়েদ বিন আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমার (রাঃ) এর এক পুত্র আবু ঈসা কুনিয়ত রাখার কারণে তিনি তাকে প্রহার করেছেন। মুগীরা ইবনে শুবা আবু ঈসা কুনিয়ত গ্রহণ করলে উমার (রাঃ) বললেন- আবু আব্দুল্লাহ হিসেবে কুনিয়ত রাখা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন- আমাকে রসূল (সাঃ) এই কুনিয়ত দান করেছেন। তখন উমার (রাঃ) বলেছেন- রসূল (সাঃ) এর পূর্বের ও পরের সমস্ত গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। আর আমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে, তা আমরা জানিনা। এরপর মৃত্যু পর্যন্ত তাকে আবু আব্দুল্লাহ্ কুনিয়তেই ডাকা হত।

 

তিনি আঙ্গুরকে কারাম বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন- কারাম হচ্ছে মুমিন ব্যক্তির অন্তর। কেননা কারাম শব্দটি প্রচুর কল্যাণ ও লাভ অর্থে ব্যবহৃত হয়।[2] রসূল (সাঃ) বলেন- তোমাদের সলাতের নামকরণে গ্রাম্য লোকেরা যেন তোমাদের উপর বিজয়ী না হয়। দেখো সেটি হচ্ছে এশার সলাত। আর গ্রাম্য লোকেরা এটিকে আতামাহ বলে থাকে।[3] তিনি আরও বলেন- তারা যদি জানতে পারত যে, ফজর ও এশার সলাতে কি পরিমাণ ছাওয়াব রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা এ দু’টি সলাতে (জামাআতে) শরীক হত।[4] সঠিক কথা হচ্ছে এশাকে আতামাহ বলতে তিনি সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করেন নি; বরং এশা নামটিকে পরিহার করে আতামাহ বলতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা যে ইবাদতকে যেই নামে নামকরণ করেছেন তিনি সেই ইবাদতকে আল্লাহর দেয়া নামেই সংরক্ষণ করতে চেয়েছেন। সুতরাং সেই নাম বর্জন করা যাবেনা বা তার উপর অন্যটিকে প্রাধান্য দেয়া যাবেনা। যেমনটি করেছেন পরবর্তী যুগের আলেমগণ। তারা অনেক পুরাতন ইসলামী পরিভাষা ও শব্দের নাম পাল্টিয়ে দিয়েছেন। এতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, যা কেবল আল্লাহই অবগত আছেন।

 

আল্লাহ্ তা‘আলা যাকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং যে সমস্ত নামকে পূর্বে উল্লেখ করেছেন, তাকে প্রাধান্য দেয়া এবং পূর্বে উল্লেখ করা জরুরী। কোরবানীর ঈদের দিন প্রথমে সলাতের কথা বলেছেন। অতঃপর কোরবানী করতে বলেছেন। ওযূতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ধৌত করার ক্ষেত্রে প্রথমে তিনি মুখমন্ডল ধৌত করার আদেশ দিয়েছেন, অতঃপর উভয় হাত, তারপর মাথা মাসাহ এবং সর্বশেষে উভয় পা ধৌত করার আদেশ দিয়েছেন। ঈদুল ফিতরে সলাতের পূর্বে ফিতরা আদায় করতে বলেছেন। তারপর সলাতের উদ্দেশ্যে ঈদগাহের দিকে বের হতে বলেছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-

قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى

‘‘নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে সে, যে পরিশুদ্ধ হয় এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, অতঃপর সলাত আদায় করে।’’ (সূরা আলাঃ ১৪-১৫) সুতরাং যেটিকে প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটিকে প্রথমেই রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *