শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / ছলাত্ বা নামাজে ‘আমিন ‘ আস্তে বলা সুন্নাত নাকি জোরে বলা সুন্নাত?

ছলাত্ বা নামাজে ‘আমিন ‘ আস্তে বলা সুন্নাত নাকি জোরে বলা সুন্নাত?

ছলাত্ বা নামাজে আমিন জোরে বলা সুন্নাত নাকি আস্তে বলা সুন্নাত? ১. নামাযে আমিন আস্তে বলতে হবে, নাকি জোরে বলতে হবে?২. তিরমিযি শরীফের এক হাদিসে বলা হয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমিন আস্তে বলতেন,অন্য হাদিসে বলা হয়েছে জোরে বলতেন। কোনটা সহীহ আর কোনটা জয়ীফ? কোন হাদীসটা মানবো ? ৩. ইমাম আবু হানীফার মতে আমিন আস্তে বলতেহবে। ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ ও ইমাম ইসহাক ইবনেরাওয়াহ এর মতে জোরে বলতে হবে। কার কথাসঠিক?প্রাসংগিক কিছু কথাঃ দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারী,বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হানাফী মাদ্রাসার প্রিন্সিপালমাওলানা আহমাদ শফী সাহেব সম্প্রতি তার এক ওয়াজেবলেন, “জোরে আমিন বলা নতুন একটা ফেতনা।”তার বক্তব্যের লিংক –https://www.youtube.com/watch?v=UmWYo2WouJ4&feature=youtu.beএকারণে তিনি মসজিদে জোরে আমিন বলতে নিষেধকরেন। তাঁর দেখাদেখি সম্প্রতি দেশের বিভিন্নমসজিদের হানাফী মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) ইমামরাওআমিন জোরে বলা যাবেনা বলে ফতুয়া(!) দিচ্ছেন।এতে নাকি ফেতনা হবে, হানাফীদের নামায ভংগ হয়েযাবে ইত্যাদি…উত্তরঃ সুরা ফাতেহার শেষে নামাযে আমিন বলা সুন্নত, এব্যপারে সকলেই একমত। কিন্তু যেই নামাযে ক্বিরাতউচ্চস্বরে পড়া হয় (মাগরিব, ইশা ও ফযরের ফরয নামাযেরপ্রথম দুই রাকাত), তখন আমিন আস্তে বলতে হবে নাকিজোরে বলতে হবে এই ব্যপারে দুইটি মত পাওয়া যায়।ক. ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) ও তাঁর অনুসারীদের মতে,আমিন আস্তে বলা সুন্নত।খ. ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ, ইমাম ইসহাক ইবনে রাওয়াহ,ইমাম বুখারী, ইমাম তিরমিযী, ইমাম নাসায়ী, ইমাম ইবনেখুজায়মা, সহ অন্য ইমামদের মতে আমিন জোরে বলাইসুন্নত।এ ব্যপারে তারা কিছু হাদীস পেশ করে থাকে, যেইহাদীসগুলো আসলে সহীহ নয়। বরং আমিন জোরেবলার হাদীসগুলো সহীহ। একারণেরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামযে আমিনজোরে ব লেছেন। এনিয়ে অনেক সহীহ হাদীসরয়েছে। যেমন –১. ওয়াইল ইবনে হুজর ( রাঃ ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন ,রাসূলুল্লাহ (সা ) “ ওয়ালাদ্দল্লীন” পাঠ করার পর “ আমীন”জোরে বলতেন।ইবনে মাজাহ, তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ ( কিতাবুস স্বলাত)হাদিস নং- ৯৩২।হাদীসটির সনদের মানঃ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী(রহঃ) এই হাদীসের সনদকে ‘সহীহ’ বলেছেন,দেখুন – তার রচিত কিতাব আত-তালখীসুল হাবীরঃ ১/২৩৬,আল্লামাহ শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী (রহঃ) ও এইহাদীসের সনদকে ‘সহীহ’ বলেছেন। হাদীসটির মূলআরবী পাঠঃﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻛَﺜِﻴﺮٍ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥُ، ﻋَﻦْ ﺳَﻠَﻤَﺔَ، ﻋَﻦْ ﺣُﺠْﺮٍﺃَﺑِﻲ ﺍﻟْﻌَﻨْﺒَﺲِ ﺍﻟْﺤَﻀْﺮَﻣِﻲِّ، ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ، ﻗَﺎﻝَ ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺮَﺃَ } ﻭَﻻَ ﺍﻟﻀَّﺎﻟِّﻴﻦَ { ﻗَﺎﻝَ “ﺁﻣِﻴﻦَ ” . ﻭَﺭَﻓَﻊَ ﺑِﻬَﺎ ﺻَﻮْﺗَﻪُ২. ওয়াইল ইবন হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনিবলেন আমি রাসূল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে “গায়রিল মাগদ্বুবি আ’লাইহিম ওয়ালাদ্বোয়াল্লি-ন” পাঠকরার পর আমীন বলতে শুনেছি। এ সময় তিনি তা (আমিন)দীর্ঘস্বরে পাঠ করেছেন।”দেখুনঃ আত্-তিরমিজি, অধ্যায় ২ (সালাত অধ্যায়), হাদিস নং- ২৪৮।হাদীসটির সনদের মানঃ ইমাম তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহহাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন। ইমাম দারা কুতনীএই হাদীসকে সহীহ বলেছেন দারা কুতনীঃ (১/৩৩৪)।ইমাম বাগাভী এইহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, শরাহুসসুনাহঃ ৫৮৬।এই হাদীসের অনেক শাহেদ থাকায় শায়খ আলবানীরাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে ‘সহীহ’ সাব্যস্ত করেছেন।হাদীসটির মূল আরবী পাঠঃﻗَﺎﻝَ ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟْﺒَﺎﺏ ﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ ﻭَﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺣَﺪِﻳﺚُﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ ﺣَﺪِﻳﺚٌ ﺣَﺴَﻦٌ ﻭَﺑِﻪِ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻏَﻴْﺮُ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﺍﻟﺘَّﺎﺑِﻌِﻴﻦَ ﻭَﻣَﻦْ ﺑَﻌْﺪَﻫُﻢْﻳَﺮَﻭْﻥَ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞَ ﻳَﺮْﻓَﻊُ ﺻَﻮْﺗَﻪُ ﺑِﺎﻟﺘَّﺄْﻣِﻴﻦِ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﺨْﻔِﻴﻬَﺎ ﻭَﺑِﻪِ ﻳَﻘُﻮﻝُﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲُّ ﻭَﺃَﺣْﻤَﺪُ ﻭَﺇِﺳْﺤَﻖُ ﻭَﺭَﻭَﻯ ﺷُﻌْﺒَﺔُ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚَ ﻋَﻦْ ﺳَﻠَﻤَﺔَﺑْﻦِ ﻛُﻬَﻴْﻞٍ ﻋَﻦْ ﺣُﺠْﺮٍ ﺃَﺑِﻲ ﺍﻟْﻌَﻨْﺒَﺲِ ﻋَﻦْ ﻋَﻠْﻘَﻤَﺔَ ﺑْﻦِ ﻭَﺍﺋِﻞٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﺃَﻥَّﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺮَﺃَ{ ﻏَﻴْﺮِ ﺍﻟْﻤَﻐْﻀُﻮﺏِ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺍﻟﻀَّﺎﻟِّﻴﻦَ }ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺁﻣِﻴﻦَ ﻭَﺧَﻔَﺾَ ﺑِﻬَﺎ ﺻَﻮْﺗَﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭ ﺳَﻤِﻌْﺖ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍﻳَﻘُﻮﻝُ ﺣَﺪِﻳﺚُ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ ﺃَﺻَﺢُّ ﻣِﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺷُﻌْﺒَﺔَ ﻓِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﻭَﺃَﺧْﻄَﺄَﺷُﻌْﺒَﺔُ ﻓِﻲ ﻣَﻮَﺍﺿِﻊَ ﻣِﻦْ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻋَﻦْ ﺣُﺠْﺮٍ ﺃَﺑِﻲ ﺍﻟْﻌَﻨْﺒَﺲِﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﺣُﺠْﺮُ ﺑْﻦُ ﻋَﻨْﺒَﺲٍ ﻭَﻳُﻜْﻨَﻰ ﺃَﺑَﺎ ﺍﻟﺴَّﻜَﻦِ ﻭَﺯَﺍﺩَ ﻓِﻴﻪِ ﻋَﻦْ ﻋَﻠْﻘَﻤَﺔَﺑْﻦِ ﻭَﺍﺋِﻞٍ ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﻓِﻴﻪِ ﻋَﻦْ ﻋَﻠْﻘَﻤَﺔَ ﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﻋَﻦْ ﺣُﺠْﺮِ ﺑْﻦِ ﻋَﻨْﺒَﺲٍﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻭَﺧَﻔَﺾَ ﺑِﻬَﺎ ﺻَﻮْﺗَﻪُ ﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﻭَﻣَﺪَّ ﺑِﻬَﺎﺻَﻮْﺗَﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭَﺳَﺄَﻟْﺖُ ﺃَﺑَﺎ ﺯُﺭْﻋَﺔَ ﻋَﻦْ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﻓَﻘَﺎﻝَﺣَﺪِﻳﺚُ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺃَﺻَﺢُّ ﻣِﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺷُﻌْﺒَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﻭَﺭَﻭَﻯﺍﻟْﻌَﻠَﺎﺀُ ﺑْﻦُ ﺻَﺎﻟِﺢٍ ﺍﻟْﺄَﺳَﺪِﻱُّ ﻋَﻦْ ﺳَﻠَﻤَﺔَ ﺑْﻦِ ﻛُﻬَﻴْﻞٍ ﻧَﺤْﻮَ ﺭِﻭَﺍﻳَﺔِ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَজোরে আমিন বলা নিয়ে ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, “এবিষয়ে (আমিন জোরে বলার উপরে) আলী ও আবূহুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও আরো হাদীস বর্ণিতহয়েছে।”ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) আরো বলেছেন, “ওয়াইলইবন হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই হাদীসটিহাসান ও সহীহ। একাধিক সাহাবী, তাবিঈ ও পরবর্তী যুগেরআলিম (আমিন জোরে বলতে হবে) এই মত ব্যক্তকরেছেন। তাঁরা বলেন আমিন নীরবে না বলেউচ্চস্বরেই বলতে হবে।”ইমামদের মাঝে ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমদ ও ইমাম ইসহাক (রহঃ)এর অভমত এ-ই।দেখুনঃ আত্-তিরমিজি, অধ্যায় ২ (সালাত অধ্যায়), হাদিস নং- ২৪৮।৩. আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহঃ) বলেন, “আমি মসজিদুলহারামে ২০০ জন সাহাবায়ে ইকরাম (রাঃ) কে পেয়েছি, যখন“ওয়ালা দ্বোয়াল্লিন” বলা হতো তখন সকলেই “আমিন”জোরে বলতেন।”বায়হাকীঃ ২/৫৯।আমিন জোরে বলা নিয়ে আলেমদের ও বিভিন্নমাযাহবের অবস্থানঃ১. শাফেয়ী মাযহাবঃ “জেহরী নামাযে আমিন জোরেবলা মোস্তাহাব”শাফেয়ী মাযহাবের বিখ্যাত আলেম, ইমাম নববীরাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “যদি নামায এমন হয়ে থাকে যে,যেই নামাযে ক্বিরাত চুপিচুপি পড়া হয়, তাহলে ক্বিরাতেরঅনুযায়ী ইমাম ও মুক্তাদির উচিৎ সেই নামাযগুলোতেআমিন আস্তে বলা। আর যদি নামায এমন হয়ে থাকেযেখানে ক্বিরাত উচ্চস্বরে পড়া হয়, তাহলে মুসল্লিদেরজন্য মুস্তাহাব হচ্ছে আমিন উচ্চস্বরে বলা। এই ব্যপারেকোন মতপার্থক্য নেই।”আল-মাজমু ৩/৩৭১।২. হাম্বালি মাযহাবঃ “জেহরী আমিন জোরে বলা সুন্নত”ইমাম ইবনে কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব‘আল-মুগনি’ তে উল্লেখ করেছেন, “ইমাম ওমুক্তাদীদের জন্য সুন্নত হচ্ছে যখন ক্বিরাতউচ্চস্বরে পড়া হয় তখন আমিন উচ্চস্বরে বলা, এবং যখনক্বিরাত নিচু স্বরে পড়া হয়, তখন আমিন নিচুস্বরে বলা।”আল-মুগনীঃ ২/১৬২।৩. হানাফী মাযহাবঃ “জেহরী, সিররি সকল নামাযে আমিনআস্তে বলা সুন্নত”হানাফী ফুকাহারা আমিন আস্তে বলার দলিল হিসেবে কিছুহাদীস পেশ করে থাকে। সেই হাদীসগুলো এবং তারসনদের অবস্থা নিচে বর্ণনা করা হলো।১. শুবা (রহঃ) এই হাদীছটি সালামা ইবন কুহায়ল, হুজর আবুলআব্বাস, আলকামা ইবন ওয়াইল, সে তাঁর পিতা ওয়াইল রাদিয়াল্লাহুআনহ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল “গায়রিলমাগদ্বুবি আ’লাইহিম ওয়ালাদ্বোয়াল্লি-ন” পাঠের পর আমীনআস্তে বলেছেন.”এই হাদীসটি (তিরমিযীঃ হা/২৪৯) একই সাহাবী থেকেবর্ণিত পূর্বের ((তিরমিযীঃ হা/২৪৮) হাদীসের বিপরীত।সুতরাং, হয় এই হাদীসটির সনদটি সহীহ, পূর্বের সনদটিজয়ীফ/জাল। অথবা পূর্বের সনদটি সহীহ, এই সনদটিজাল/জয়ীফ। রাসুল সাঃ এর কথা বা হাদীস সহীহ বা দুর্বলহয়না, রসুলের সব কথাই মানতে হবে। কিন্তু রাসুল সাঃথেকে হাদীসটি আমাদের পর্যন্ত পৌছাতে যেই রাবীবা মানুষগুলো ছিলেন – তারা কতটুকু সত্যবাদী, ন্যায়পরায়নও নির্ভরযোগ্য ছিলেন তাঁর উপরে ভিত্তি করে হাদীসসহীহ (হাদীসটি নিশ্চিতভাবে রাসুল সাঃ এর কথা বলেপ্রমানিত), জয়ীফ (হাদীসটি সন্দেহপূর্ণ, অর্থাৎ এইকথাটি রাসুল সাঃ আসলেই বলেছিলেন কিনা সেটা নিশ্চিতহওয়া যায়না, ৫০-৫০ অবস্থা) অথবা জাল (এটা কোন হাদীস বারাসুল সাঃ এর কথা নয়, মিথ্যুক লোকেরা রাসুল সাঃ নামে এইকথা প্রচার করেছে)।যাইহোক, আমিন আস্তে বলতে হবে, এই (২৪৯ নাম্বারহাদীস যেখানে রাসুল সাঃ আমিন আস্তে বলতেন বলাহয়েছে) হাদীসের নিচে ইমাম তিরমিযী নিজেইমন্তব্য লিখেছেন,“আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (তাঁর উস্তাদ, যিনি ইমাম বুখরীনামে বেশি পরিচিত) তাঁকে বলতে শুনেছি যে, এইবিষয়ে সুফইয়ান (রহঃ) বর্ণিত রিওয়ায়াতটি (২৪৮ নং) শুবাররিওয়ায়াতটি (২৪৯ নং) থেকে অধিকতর সহীহ। শুবা এইরিওয়ায়াতটির একধিক স্থানে ভুল করেছেন।ক. তিনি সনদে হুজর আবুল আম্বাস এর কথা বলেছেনঅথচ তিনি হলেন হুজর ইবনুল আম্বাস, তাঁর উপনাম হল আবুসসাকান;খ. আলকামা ইবন ওয়াইলেন নাম অতিরিক্ত উল্লেখকরেছেন অথচ এই সনদে আলকামার উল্লেখ হবে না;প্রকৃত সনদটি হল, হুজর ইবন আম্বাস ওয়াইল ইবন হুজররাদিয়াল্লাহু আনহু,গ. তাঁর বণনায় আছে। ﺧﻔﺾ ﺑﻬﺎ ﺻﻮﺗﻪ রাসূল নিম্নস্বরেআমীন পাঠ করেছেন অথচ প্রকৃত কথা হল ﻣﺪ ﺑﻬﺎ ﺻﻮﺗﻪতিনি উচ্চস্বরে তা পাঠ করেছেন।ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) আরো বলেনঃ “আমি ইমামআবূ যুরআকেও এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকরেছিলাম। তিনি বলেছেন, সুফইয়ানের রিওয়ায়াতটিই অধিকসহীহ।”আলা ইবন সালিহ আল আসাদীও সালামা ইবন কুহায়লেনসূত্রে এই হাদীছটি সুফইয়ানের অনুরূপ বর্ণনাকরেছেন।ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺑَﻜْﺮٍ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺃَﺑَﺎﻥَ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُﻧُﻤَﻴْﺮٍ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺍﻟْﻌَﻠَﺎﺀُ ﺑْﻦُ ﺻَﺎﻟِﺢٍ ﺍﻟْﺄَﺳَﺪِﻱُّ ﻋَﻦْ ﺳَﻠَﻤَﺔَ ﺑْﻦِ ﻛُﻬَﻴْﻞٍ ﻋَﻦْﺣُﺠْﺮِ ﺑْﻦِ ﻋَﻨْﺒَﺲٍ ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻧَﺤْﻮَ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ ﻋَﻦْ ﺳَﻠَﻤَﺔَ ﺑْﻦِ ﻛُﻬَﻴْﻞٍইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী রহ.বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবন আবানআবদুল্লাহ ইবন নুমায়র আলা ইবন সালিহ আল আসাদী ইবনকুহায়ল হুজর ইবন আম্বাস ওয়ালি ইবন হুজর সূত্রেসুফইয়ানের অনুরূপ এই হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।সুতরাং, দেখা যাচ্ছে, ইমাম তিরমিযী আমিন আস্তে বলারহাদীস উল্লেখ করে এই হাদীসকে ইমাম বুখারী ওইমাম যুরআ’হ যে সহীহ নয় এবং কেন সহীহ নয়সেটাও উল্লেখ করে দিয়েছেন।

Check Also

কবরের মাধ্যমে বরকত হাসিল করা বা উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য কিংবা নৈকট্য হাসিলের জন্য কবরের চার পার্শ্বে তাওয়াফ করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করার হুকুম কি?

কবর থেকে বরকত কামনা করা হারাম এবং উহা শির্কের পর্যায়ে। কেননা এটা এমন এক বিশ্বাস, ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *