শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / নাপাকীর (নাজাসাত) প্রকারভেদ

নাপাকীর (নাজাসাত) প্রকারভেদ

শরীয়াত যে সব বস্ত্তকে নাপাক বলে প্রমাণ করেছে তা হলো :

(১) মানুষের পায়খানা ও (২) মানুষের পেশাব :  

আলিমদের ঐকমত্যে, এ দু’টি নাজাসাত বা নাপাকীর অন্তর্ভুক্ত। পায়খানা অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে মহানাবীর উক্তি হলো: «إِذَا وَطِئَ أَحَدُكُمْ بِنَعْلِهِ الْأَذَى، فَإِنَّ التُّرَابَ لَهُ طَهُورٌ » যদি তোমাদের কারও জুতার তলায় নাপাক বস্ত্ত (মল-মূত্র) লাগে, তাহলে মাটি তা পবিত্র করার জন্য যথেষ্ট হবে।[1] এ হাদীস পায়খানা অপবিত্র হওয়ার প্রমাণ বহন করে। এরূপ অনেক হাদীস রয়েছে যেগুলো দ্বারা পায়খানা থেকে ইসতিনজা করার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ হাদীসগুলো সামনে আলোচনা করা হবে। আর পেশাব অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে :

أَنَّ أَعْرَابِيًّا بَالَ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَامَ إِلَيْهِ بَعْضُ الْقَوْمِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعُوهُ وَلَا تُزْرِمُوهُ» قَالَ: فَلَمَّا فَرَغَ دَعَا بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَصَبَّهُ عَلَيْهِ

একজন বেদুঈন এসে মাসজিদের মধ্যে পেশাব করতে শুরু করল। উপস্থিত লোকদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে বাধা দিতে দাঁড়ালে, রাসূল (ﷺ) বললেন, থাম তাকে পেশাব করতে বাধা দিওনা! আনাস (রাঃ) বলেন লোকটির পেশাব করা শেষ হলে, রাসূল (ﷺ) এক বালতি পানি আনিয়ে তার পেশাবের উপর ঢেলে দিলেন।[2]

(৩) মযি:

মযি হলো সাদা আঠালো পানি যা আদর, সোহাগ বা সহবাসের চিন্তা ও ইচ্ছা করার সময় নির্গত হয়। এটা সজোরে প্রবাহিত হয় না। এর ফলে দুর্বলতা অনুভব হয় না।  তা নির্গত হওয়ার কথা মানুষ খুব কমই টের পায়। নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌনাঙ্গ থেকে এটা নির্গত হয়ে থাকে। তবে নারীর যৌনাঙ্গ থেকেই এটা অধিকতর নির্গত হয়।[3] এটা সর্বসম্মতভাবে নাপাক।[4] এজন্যই মহানাবী (ﷺ) এটা নির্গত হওয়ার কারণে লজ্জাস্থান ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমনঃ সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, একদা এক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ) কে মযি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: « «يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَيَتَوَضَّأُ  তথা, সে তার লজ্জা স্থান ধৌত করবে এবং ওযূ করবে।[5]

(৪) ওদি: 

ওদি এক ধরণের সাদা ঘন পানি, যা পেশাবের পর নির্গত হয়। এটি সর্বসম্মতিক্রমে নাপাক।

عن بن عباس قال : المني والودي والمذي أما المني فهو الذي منه الغسل وأما الودي والمذي فقال اغسل ذكرك أو مذاكيرك وتوضأ وضوءك للصلاة

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মনি, ওদি ও মযির হুকুম হলো, মনি (বীর্য) নির্গত হলে গোসল করতে হবে। আর ওদি ও মযির ব্যাপারে তিনি বলেন, তা নির্গত হলে তোমার লজ্জাস্থান ধৌত কর এবং সালাতের জন্য ওযূ কর।[6]

(৫) হায়েযের রক্ত:

عَنْ أَسْمَاءَ قَالَتْ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: إِحْدَانَا يُصِيبُ ثَوْبَهَا مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ، كَيْفَ تَصْنَعُ بِهِ؟ قَالَ: تَحُتُّهُ، ثُمَّ تَقْرُصُهُ[7] بِالْمَاءِ، ثُمَّ تَنْضَحُهُ، ثُمَّ تُصَلِّي فِيهِ

আসমা বিনতে আবূ বকর বলেন, একদিন একজন স্ত্রী লোক নাবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! আমাদের কারও কাপড়ে যদি হায়েযের রক্ত লেগে যায় তখন সে কি করবে? তিনি বললেন: রক্তের জায়গাটি ভালোভাবে রগড়াবে, তারপর পানি দিয়ে কচলিয়ে উত্তমরূপে ধুয়ে ফেলবে, অতঃপর ঐ কাপড় পরে সালাত পড়তে পারবে।[8]

(৬) যে সকল প্রাণীর গোশত খাওয়া না জায়েয সেগুলোর গোবর:

عن عبد الله بن مسعود قال : أراد النبي صلى الله عليه و سلم أن يتبرز فقال : إئتني بثلاثة أحجار فوجدت له حجرين وروثة حمار فأمسك الحجرين وطرح الروثة وقال : هي رجس

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: মহানাবী (ﷺ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার ইচ্ছা করলেন, অতঃপর বললেন: আমাকে তিনটি পাথর এনে দাও। আমি দু’টি পাথর ও একখণ্ড গাধার শুকনো গোবর পেলাম। তিনি পাথর দু’টি নিলেন এবং গোবর খণ্ড ফেলে দিয়ে বললেন, এটা অপবিত্র।[9]

হাদীসে বর্ণিত رجس শব্দের অর্থ নাপাক। এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, যে সকল প্রাণীর গোশত খাওয়া না জায়েয সেগুলোর গোবর নাপাক।

(৭) কুকুরের লালা বা উচ্ছিষ্ট:

মহানাবী (ﷺ) বলেন: طُهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يَغْسِلَهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولاَهُنَّ بِالتُّرَابِ» »- কুকুর যদি তোমাদের পাত্রে লেহন করে (খায় বা পান করে) তবে তা পাক করার নিয়ম এই যে, তা সাতবার পানি দ্বারা ধৌত করতে হবে, প্রথম বার মাটি দ্বারা ঘর্ষণ করতে হবে।[10] এ হাদীস কুকুরের লালা বা উচ্ছিষ্ট নাপাক হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

(৮) শুকুরের গোশত:

এটি আলিমগণের ঐকমত্যে নাপাক। কেননা এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ্‌ কুরআনে প্রকাশ্য নির্দেশ দিয়েছেন:

﴿قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ﴾

বল, ‘আমার নিকট যে ওহী পাঠানো হয়, তাতে আমি আহারকারীর উপর কোন হারাম পাই না, যা সে আহার করে। তবে যদি মৃত কিংবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের গোশত হয়- কারণ, নিশ্চয় তা অপবিত্র। (সূরা আল আনআম-১৪৫)

(৯) মৃত প্রাণী:

মৃত প্রাণী হলো: স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করে এমন প্রাণী। অর্থাৎ শরীয়াত সম্মতভাবে যা যবেহকৃত নয়। এটি সর্বসম্মতিক্রমে নাপাক। কেননা মহানাবী (ﷺ) বলেন: إذا دبغ الإهاب فقد طهر তথা, কাঁচা চামড়াকে পাকা করা হলে তা পবিত্র হয়ে যায়।[11] হাদীসে বর্ণিত الإهاب অর্থ : মৃত প্রাণীর চামড়া।

Check Also

জিনেরা কি গায়েব জানে?

জিনেরা গায়েব জানে না। আল্লাহ ব্যতীত আকাশ-জমিনের কোন মাখলুকই গায়েবের খবর রাখে না। আল্লাহ বলেনঃ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *