শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা এবং বিদআত নিয়ে আলোচনা

প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা এবং বিদআত নিয়ে আলোচনা

eid-a-milad-un-nabi

প্রশ্নঃ
বর্তমান প্রচলিত মিলাদুন্নবী পালন করার হুকুম কি? মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিসিল, জুশনে জুলুস ইত্যাদি পালন করা কি জায়েয? আমাদের এলাকার এক ইমাম সাহেব ফাতওয়া দিয়েছন যে, কোন ব্যক্তি যদি ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে না, সে কাফের হয়ে যাবে। তার কথা কতটুকু সঠিক? কুরান হাদিসের আলোকে জবাব পাওয়ার আশা করছি।

উত্তরঃ
এ কথা সর্বজন বিদিত যে, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ স. এর প্রতি গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ ও কর্মকান্ডের আলোচনার সাথে সাথে অনুসরনীয় বিষয়ে তাঁর অনুসরণ আল্লাহ তায়ালার রহমত প্রাপ্তির অন্যতম উপায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। তবে তা আমাদেরকে অবশ্যই সেই পদ্ধতিতে করতে হবে, যে পদ্ধতি স্বয়ং নবী করীম সাঃ তার সাহাবাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। যা বিভিন্ন হাদিস ও সীরাতের কিতাব সমূহে বর্ণিত রয়েছে।

হাদীস শাস্ত্র এমন একটি প্রমাণ সম্ভার যাতে ধর্মীয় সকল বিষয় সহ মানব জীবনের ছোট বড় সকল কাজ করার শিক্ষা রয়েছে। এমনকি পেশাব, পায়খানা করার পদ্ধতি ও দিক নির্দেশনাও রয়েছে।

রাসূল স. এর জীবন চরিত নিয়ে আলোচনা করা এবং তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের পদ্ধতিও হাদিস, আসার তথা সাহাবাগণের উক্তি ও কর্ম পদ্ধতি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আর হাদিস শরিফে এর প্রমাণ এভাবে পাওয়া যায় যে, দিন তারিখ ও সময় নির্ধারণ না করে এবং আনুষ্ঠিকতার বাধ্যবাধকতা ব্যতিরেকে কখনো কখনো রাসূল স. এর জীবনী আলোচনা করা এবং সর্বদা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা। সুতরাং এ সম্পর্কে মনগড়া ভিত্তিহীন কোনো পদ্ধতি আবিস্কার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অবশ্য বর্জনীয় বিষয়।

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,আমাদের দ্বীনের মাঝে যে ব্যক্তি নতুন বিষয় আবিস্কার করে যা তাতে নেই তাহলে তা পরিত্যাজ্য।

সহীহ বুখারী, হাদিস নং-২৫৫০,
সহীহ মুসলিম-৪৫৮৯৷

এই হাদিসে কয়েকটি শর্তে বিদআত ও নব আবিস্কৃত বস্তুকে নবীজি সাঃ পরিত্যাজ্য বলেছেন। যেমন,

১৷ সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। যার কোন প্রমাণ নবীযুগে বা সাহাবা যুগে নেই, এমন বিষয় হওয়া।

২৷ দ্বীনী বিষয় হওয়া। সুতরাং দ্বীনী বিষয় ছাড়া যত নতুন বিষয়ই আবিস্কারই হোকনা কেন তা বিদআত নয়৷ যেমন মোবাইল, প্লেইন, নতুন নতুন আসবাব ইত্যাদি। এসব বিদআত নয়। কারণ এসব দ্বীনী বিষয় নয়।

৩৷ দ্বীনের ‘মাঝে’ নতুন আবিস্কার হওয়া । দ্বীনের ‘জন্য’ হলে সমস্যা নেই। কারণ দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার মানে হল ইহা সওয়াবের কাজ, যেমন সুন্নাত, ওয়াজিব ইত্যাদী। আর দ্বীনের জন্য হলে সেটা মূলত সওয়াবের কাজ নয়, বরং সওয়াবের কাজের সহায়ক। যেমন মাদরাসা শিক্ষার একাডেমিক পদ্ধতি নববী যুগে ছিলনা। পরবর্তীতে আবিস্কার করা হয়েছে। এই একাডেমিক পদ্ধতিটি দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার নয়, বরং দ্বীনী কাজের জন্য সহায়ক হিসেবে আবিস্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ দ্বীন শিখার সহায়ক। আর দ্বীন শিখাটা সওয়াবের কাজ। কিন্তু সিষ্টেমটা মূলত সওয়াবের কাজ নয় বরং সহায়ক। মিলাদ কিয়াম বিদআত। কারণ এটি নতুন আবিস্কৃত। নববী যুগ বা সাহাবা যুগে ছিল না। সেই সাথে এটিকে দ্বীন মনে করা হয়, সওয়াবের কাজ মনে করা হয় তাই এটি বিদআত।

তাই রাসূল স. এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করা সাওয়াব ও বরকতের কাজ হলেও শরিয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ লোকেরা ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ নামে ‍নির্দিষ্ট দিনে, বিশেষ পদ্ধতিতে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, তা কোরআন-হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণ থেকে প্রমাণিত না হওয়ায় তা অবশ্য পরিত্যাজ্য এবং জঘন্য বিদয়াত। কেননা, সাহাবা, তাবেঈনগণই ছিলেন প্রকৃত নবী প্রেমীক ও তাঁর আদর্শের যথাযথ অনুসারী৷

ইসলামে দুই ঈদ বহু হাদীস দ্বারা প্রমানি৷ যা সাহাবাদের যুগ থেকে পালিত হয়ে আসছে৷ এছাড়া তৃতীয় কোন ঈদ ইসলামে প্রমানিত নয়৷

রবিউল আউয়াল মাসে পালিত প্রচলিত ঈদে মীলাদুন্নবী স. ৬০৪ হিজরীতে ইরাকের মুসিল শহরের বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফার উদ্দীন কুকুরী ও তার এক দরবারী আলেম আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া এ দুজন মিলে আবিস্কার করে। এরা উভয়ে দ্বীনের ব্যাপারে খুবই উদাসীন এবং ফাসিক ছিলো। পরবর্তীতে অজ্ঞ ও মূর্খ লোকদের দ্বারা আরো অনেক শরিয়ত বিরোধী কর্মকান্ড এতে অনুপ্রবেশ করে। যার সব কিছুই কোরআন- হাদিস, ইজমা-কিয়াস তথা শরিয়তের মৌলিক সকল দলীলেরই পরিপন্থী। এসকল কারণেই সব যুগের হক্কানী আলেমগণ এক বাক্যে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী, মিসিল জোশনে জুলুস ও মিলাদ মাহফিলকে নাজায়েয হারাম ও বিদআত বলেই ফত্ওয়া দিয়ে থাকেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী দাবীধারগন তার স্বপক্ষে নিম্নেবর্নিত আয়াত ও হাদীসকে দলিল হিসেবে উল্যেখ করে থাকে৷

১৷ সুরা আলে ইমরানের ১০৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,

اذكروا ﻧﻌﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻜﻢ
” অর্থাৎ তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর;

২৷ আল্লাহ পাক সুরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতে এরশাদ করেন,
” ﻗﻝ ﺑﻔﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺑﺮﺣﻤﺘﻪ ﻓﺒﺬﺍﻟﻚ
ﻓﻠﻴﻔﺮﺣﻮﺍ ﻫﻮ ﺧﻴﺮﻣﻤﺎ ﻳﺠﻤﻌﻮﻥ
অর্থাৎ(হে নবী) আপনি বলে দিন‘এ হল তাঁরই অনুগ্রহ ও করুণায়; সুতরাং এ নিয়েই তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত এটা তারা যা (পার্থিব সম্পদ) সঞ্চয় করছে তা হতে অধিক উত্তম।

” ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰ ﻗَﺘَﺪَﺓَ ﺍﻻَﻧْﺼﺎَﺭِﻯ ﺭَﺿِﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨﻪُ ﺍَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ سئل ﻋَﻦْ ﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡ ﺍﻻِﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻗَاﻞَ
ﺫَﺍﻙَ ﻳَﻮْﻡٌ ﻭُﻟِﺪْﺕُ ﻓِﻴْﻪِ ﺑُﻌِﺜْﺖُ ﺍَﻭْﺍُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻓِﻴْﻪِ –
অর্থাৎ হজরত আবু কাতাদা ( রা ) থেকে বর্নিত, নবীজি সাঃ কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন , এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে , এই দিনে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এই দিনেই আমার উপর নাজিল হয়েছে ৷
হাদিস শরীফে আরো এরশাদ
হয়েছে “
ﻋَﻦْ ﺍِﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﺍَﻧَّﻪٗﻛَﺎﻥَ ﻳُﺤَﺪِّﺙُ ﺫَﺍﺕَ
ﻳَﻮْﻡٍ ﻓِﻰْ ﺑَﻴْﺘِﻪٖ ﻭَﻗَﺎﺋِﻊَﻭِﻻﺩَﺗٖﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻟِﻘَﻮْﻡٍ ،
ﻓَﻴَﺴْﺘَﺒْﺸِﺮُﻭْﻥَ ﻭَﻳُﺤَﻤِّﺪُﻭْﻥَ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﻳُﺼَﻠُّﻮْﻥَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﺎِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀَﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺣَﻠَّﺖْﻟَﻜُﻢْ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻰْ
অর্থাৎ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( রা ) নিজেই বর্ণনা করেন , একদা তিনি উনার গৃহে সাহাবাদের নিয়ে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের ইতিহাস আলোচনা করতেছিলেন৷ সাহাবাগন শুনে আনন্দিত হয়ে আল্লাহর প্রশংসা করছেন, নবীজির উপর দরুদ পাঠ করছেন৷ অতপর যখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন, বললেন , তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত হালাল হয়ে গেছে ৷

এধরনের আয়াত ও হাদীস থেকে তারা ঈদে মিলাদুন্নবী প্রমান করতে চায়৷ অথচ ইহা স্পষ্ট ভ্রষ্টতা বৈকিছু নয়৷ কারন সাহাবা তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী থেকে নিয় প্রায় সাত শত বৎসর পর্যন্ত এসব আয়াত, হাদীস থেকে কেউ মিলাদুন্নবী বুঝেন নি৷ আজকাল তথাকথি নামধারী সুন্নিরা মিলাদুন্নবী প্রমান করতে চায়৷ ইহা কত বড় মুর্খতা হতে পারে আন্দাজ করুন৷

ছয়শতকের পুর্বের কোন মুফাচ্ছীর, পরে কোন হক্কানী মুফাচ্ছীর এসব আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কিতাবে ঈদে মিলাদুন্নবীর কথা বলেছেন, এমন প্রমান সারা জীবন চেষ্টা করলেও কোন ব্যক্তি দেখাতে পারবে না৷

এক নং আয়াতে মানব জাতির প্রতি আল্লাহ প্রদত্ব সার্বিক নিয়ামতকে স্বরন করার কথা বলা হয়েছে৷ এখানে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা, মিসিল করা কিভাবে প্রমান হয়!

দ্বিতীয় আয়াতে সকল মুফচ্ছীরগন ফযল ও নিয়ামতের ব্যাখ্যা করেছেন কোরআন দিয়ে, কেউ কেউ নবীজির কথাও উল্যেখ করেছেন৷ নবীজি সাঃ এর আগমন এবং স্বয়ং নবীজি সাঃ উম্মতের জন্য নিয়ামত ৷ তাই তার শুকরিয়া ও তার জীবন চরিত আলোচনা করে অনুসর করা জরুরী৷ এবং তা অবশ্যই নবীজি যেভাবে বলেছেন সাহাবাগন যেভাবে করেছেন সেভাবে হতে হবে৷ মনগড়া বানানো পদ্ধতি অবলম্ভন করলে নবীজির ভালবাসা তো দূরের কথা নবীজির চরম শত্রুতে পরিনত হবে৷

প্রথম হাদীসে সোমবারে রোজা পালনের কথা উল্যেখ আছে, কারন নবীজি সাঃ সোমবারে জন্মগ্রহন করেছেন৷ এতে ঈদ উজ্জাপন করার কথা কোথায় রয়েছে? বরং রোজা তো সরাসরি ঈদের বিপরিত৷ তাই দুই ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ৷ তোমরা কেমন নবীর আশেক হলে নবীজি যেদিন রোজা রেখেছে সেদিন তোমরা ঈদ উজ্জাপন করো! যা সম্পুর্ন রোজার বিপরিত৷

দ্বিতীয় হাদীসে নবীজির জন্মের ঘটনাবলি আলেচনার কথা উল্যেখ করা হয়েছে৷ আমরা তো এ আলেচনা করা অত্যান্ত ফযিলতের বিষয় মনে করি৷ এবং আলোচনা করি৷ কিন্তু এ হীদীস থেকে তো ঈদ প্রমানিত হয় না৷ মিসিল, জোশনে জুলিস প্রমানিত হয় না৷ সাহাবা তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীগন যেভাবে নবীজি সাঃ এর জন্ম বিত্যান্ত আলোচনা করেছেন, যেভাবে আমল করেছেন, তা করা অত্যান্ত ফযীলতপুর্ন ৷ তা বাদ দিয়ে মনগড়া পদ্ধতি অবলম্বন করা সরাসরি ইসলামে বর্ধিত করা৷ যা বিদআত, নাজায়েয ও হারাম৷

অতএব বর্তমান দেশজোরে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী যা সম্পুর্ন শরীয়ত পরিপন্থী, ইসলামে নতুন আবিস্কৃত আমল৷ যা সম্পুর্ন হারাম৷ প্রত্যেকের জন্য পরিহার করা অপরিহার্য৷

তাই প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে উক্ত ইমাম সাহেবের বক্তব্য ভ্রান্তিপূর্ণ। বিশেষ করে ঈদে মীলাদুন্নবীর অস্বীকারকারীদের কাফের বলা চরম ধৃষ্টতা ও কুরুচিপূর্ণ। এজন্য তার তাওবা করা আবশ্যক।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি কাউকে কাফের বললে দুইজনের একজন কাফের হবে। হয়তো যাকে কাফের বলেছে সে প্রকৃতপক্ষ্যে কাফের হবে। নতুবা কাফের সম্বোধনকারিই কাফের হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম)

আরো দলিলঃ

ﻛﻤﺎ ﺃﺧﺮﺝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻰ ﺻﺤﻴﺤﻪ : ‏( 2/ 959 ‏)
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ‏( ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﻓﻲ ﺃﻣﺮﻧﺎ ﻫﺬﺍ ﻣﺎ ﻟﻴﺲ ﻓﻴﻪ ﻓﻬﻮ
ﺭﺩ ‏) .
ﻭﻓﻰ ﻋﻤﺪﺓ ﺍﻟﻘﺎﺭﻱ ﺷﺮﺡ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ : ‏( 8/ 396 ‏)
ﻭﺍﻟﺒﺪﻋﺔ ﻟﻐﺔ ﻛﻞ ﺷﻲﺀ ﻋﻤﻞ ﻋﻠﻲ ﻏﻴﺮ ﻣﺜﺎﻝ ﺳﺎﺑﻖ ﻭﺷﺮﻋﺎ
ﺇﺣﺪﺍﺙ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺃﺻﻞ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ .
ﻭﻓﻰ ﻣﺮﻋﺎﺓ ﺍﻟﻤﻔﺎﺗﻴﺢ ﺷﺮﺡ ﻣﺸﻜﺎﺓ ﺍﻟﻤﺼﺎﺑﻴﺢ : ‏( 1/ 395 ‏)
ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ، ﻭﻫﻲ ﻟﻐﺔ : ﻣﺄﺧﻮﺫﺓ ﻣﻦ ﺍﻻﺑﺘﺪﺍﻉ، ﻭﻫﻮ ﺍﻻﺧﺘﺮﺍﻉ ﻋﻠﻰ
ﻏﻴﺮ ﻣﺜﺎﻝ ﺳﺎﺑﻖ، ﻭﺷﺮﻋﺎً : ﺍﻟﻤﺤﺪﺙ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻳﻦ، ﺃﻱ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ
ﻋﻠﻴﻪ ﺃﻣﺮﻩ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻭﻻ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ، ﺃﻱ ﻟﻴﺲ
ﻋﻠﻴﻪ ﺃﺛﺎﺭﺓ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻻ ﻣﻦ ﺳﻨﺔ ﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﻻ ﻓﻌﻠﻪ ﺃﻭ
ﺃﻣﺮ ﺑﻪ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﻳﻌﺘﻘﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻳﻦ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻌﺮﻑ ﺍﻟﺸﺬﻱ ﻟﻠﻜﺸﻤﻴﺮﻱ : ‏( 2/ 82 ‏)
ﺍﻟﻤﻮﻟﻮﺩ ﺍﻟﺬﻱ ﺷﺎﻉ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﻭﺃﺣﺪﺛﻪ ﺻﻮﻓﻲ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ
ﺳﻠﻄﺎﻥ ﺇﺭﺑﻞ ﺳﻨﺔ ‏( 600 ‏) ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺃﺻﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ
ﺍﻟﻐﺮﺍﺀ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ : ‏( ﺹ : 21 ‏)
ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻋﻠﻲ ﻣﺤﻔﻮﻅ : ” ﻭﺃﻭﻝ ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻮﻱ
ﺑﻤﺪﻳﻨﺔ ﺇﺭﺑﻞ ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺍﻟﻤﻈﻔﺮ ﺃﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﻓﻲ ﺍﻟﻘﺮﻥ ﺍﻟﺴﺎﺑﻊ ، ﻭﻗﺪ
ﺍﺳﺘﻤﺮ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺑﺎﻟﻤﻮﺍﻟﺪ ﺇﻟﻰ ﻳﻮﻣﻨﺎ ﻫﺬﺍ ، ﻭﺗﻮﺳﻊ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻓﻴﻬﺎ
ﻭﺍﺑﺘﺪﻋﻮﺍ ﺑﻜﻞ ﻣﺎ ﺗﻬﻮﺍﻩ ﺃﻧﻔﺴﻬﻢ ﻭﺗﻮﺣﻴﻪ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﺷﻴﺎﻃﻴﻦ
ﺍﻹﻧﺲ ﻭﺍﻟﺠﻦ ، ﻭﻻ ﻧﺰﺍﻉ ﻓﻲ ﺃﻧﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ .
ﻭﻓﻰ ﺷﺬﺭﺍﺕ ﺍﻟﺬﻫﺐ – ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻌﻤﺎﺩ : ‏( 5/ 138 ‏)
ﻭﺃﻣﺎ ﺍﺣﺘﻔﺎﻟﻪ ﺑﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻮﺻﻒ ﻳﻘﺼﺮ ﻋﻦ ﺍﻹﺣﺎﻃﺔ ﻛﺎﻥ
ﻳﻌﻤﻠﻪ ﺳﻨﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻣﻦ ﻣﻦ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ ﻭﺳﻨﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ
ﻋﺸﺮ ﻷﺟﻞ ﺍﻻﺧﺘﻼﻑ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻴﻪ ﻓﺈﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺑﻴﻮﻣﻴﻦ
ﺃﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﺍﻹﺑﻞ ﻭﺍﻟﺒﻘﺮ ﻭﺍﻟﻐﻨﻢ ﺷﻴﺌﺎ ﻛﺜﻴﺮﺍ ﻳﺰﻳﺪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻮﺻﻒ
ﻭﺯﻓﻬﺎ ﺑﺠﻤﻴﻊ ﻣﺎ ﻋﻨﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﺒﻮﻝ ﻭﺍﻟﻤﻐﺎﻧﻲ ﻭﺍﻟﻤﻼﻫﻲ ﺣﺘﻰ
ﻳﺄﺗﻲ ﺑﻬﺎ ﺍﻟﻤﻴﺪﺍﻥ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻤﺪﺧﻞ ﻹﺑﻦ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﺤﺎﺝ : ‏( 2/3 ‏)
ﻭﻣﻦ ﺟﻤﻠﺔ ﻣﺎ ﺍﺣﺪﺛﻮﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ ﻣﻊ ﺍﻋﺘﻘﺎﺩﻫﻢ ﺃﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ
ﺍﻛﺒﺮ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺍﺕ ﻭﺍﻇﻬﺎﺭ ﺍﻟﺸﻌﺎﺋﺮ ﻣﺎ ﻳﻔﻌﻠﻮﻧﻪ ﻓﻰ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ
ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻭﻗﺪ ﺍﺣﺘﻮﻯ ﻋﻠﻰ ﺑﺪﻉ ﻭﻣﺤﺮﻣﺎﺕ ﺟﻤﻠﺔ .
ﻭﻓﻰ ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﻷﺯﻫﺮ : ‏( 6/ 237 ‏)
ﻷﻥ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﻤﻮﺍﻟﺪ ﺑﺎﻟﺼﻔﺔ ﺍﻟﺘﻰ ﻳﻌﻤﻠﻬﺎ ﺍﻵﻥ ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻪ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ
ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻭﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺏ ﻟﻔﻌﻠﻮﻩ .
ﻭﻳﺮﺍﺟﻊ ﺃﻳﻀﺎ :
ﻓﺘﺎﻭﻯ ﻣﺤﻤﻮﺩﻳﻪ : 5/377 , ﺍﺷﺮﻑ ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ : 1/426

আলোচনায়ঃ মুফতী মেরাজ তাহসীন