শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / বদনযরে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা হল

বদনযরে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা হল

সুনানে আবু দাউদে সাহ্ল বিন হুনাইফ হতে বর্ণিত হয়েছে যে, আমরা একটি বন্যাকবলিত এলাকার নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় আমি পানিতে নেমে গোসল করলাম। আমি সেই পানি হতে জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় উঠে আসলাম। নাবী (সাঃ) কে সেই খবর দেয়া হলে তিনি বললেন- আবু ছাবেতকে বল, সে যেন আউযুবিল্লাহ্ পাঠ করে। বর্ণনাকারী বলেন- আমি বললামঃ হে আমার অভিভাবক! (হে আল্লাহর রসূল!) ঝাড়-ফুঁক কি উপকারী? নাবী (সাঃ) তখন বললেন-   

لَا رُقْيَةَ إِلَّا مِنْ نَفْسٍ أَوْ حُمَةٍ أَوْلَدْغَةٍ

‘‘বদনযর, বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ এবং বিচ্ছুর কামড়ের বিষ নামানোর ঝাড়-ফুঁক ব্যতীত কোন

ঝাড়-ফুঁক নেই।’’[1]

হিংসুকের হিংসা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার ক্ষেত্রে এবং বদ নযরের কুপ্রভাব থেকে আত্ম রক্ষার ঝাড়-ফুকের মধ্যে বেশী বেশী সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা ফাতেহা এবং আয়াতুল কুরসী পড়া উচিৎ। নাবী (সাঃ) যে সমস্ত দু’আ পড়েছেন, তার কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হল-

بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الأَرْضِ وَلاَ فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمِ

    ‘‘শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে আসমান এবং যমীনের কোন বস্ত্তই কোন ক্ষতি করতে পারবেনা, তিনি মহাশ্রোতা মহাজ্ঞানী’’।[2] 

أعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

    ‘‘আশ্রয় প্রার্থনা করছি আল্লাহর পরিপূর্ণবাণী সমূহের মাধ্যমে, তাঁর সৃষ্টির সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে’’।[3]

أَعُوُذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وهامَّةٍ ومِنْ كُلِّ عَيْنٍ لامَّةٍ

‘‘আমি আল্লাহর কাছে তাঁর পরিপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে প্রতিটি শয়তান এবং বিষধর বস্ত্ত ও কষ্টদায়ক নযর হতে তোমাদের জন্য আশ্রয় চাচ্ছি’’।[4]

أَعُوْذُ بِكُلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِىْ لاَ يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌ وَلاَ فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

‘‘আমি আল্লাহ্ তা‘আলার সমস্ত কালেমার উসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যেই কালেমাগুলো কোন নেককার কিংবা বদকারের পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব নয়। আমি আল্লাহর কাছে মাখলুকের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাচ্ছি’’।[5]

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذَرَأَ وَبَرَأَ وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلاَّ طَارِقاً يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ

‘‘আমি আল্লাহর সম্পূর্ণ কালামের মাধ্যমে ঐ জিনিষের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাচ্ছি, যা তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং বিস্তার করেছেন। আরও আশ্রয় চাচ্ছি ঐ জিনিষের অকল্যাণ হতে, যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা আকাশে আরোহন করে। আল্লাহর কাছে আরও আশ্রয় চাচ্ছি ঐ বস্ত্তর অনিষ্ট হতে, যা তিনি যমীনে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং আরও আশ্রয় চাচ্ছি ঐ বস্ত্তর অনিষ্ট হতে, যা যমীন থেকে উৎপন্ন হয়। আমি আল্লাহর কাছে আরও আশ্রয় চাচ্ছি, দিন ও রাতের ফিতনা হতে এবং রাতে প্রত্যেক আগমণকারীর অনিষ্ট হতে। হে আল্লাহ্! তবে ঐ আগমণকারী হতে নয়, যে কল্যাণসহ আগমণ করে’’।[6]  

  أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

‘‘আমি আল্লাহর সম্পূর্ণ কালামের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আশ্রয় প্রার্থনা করছি তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট হতে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা হতে এবং আমার কাছে তাদের হাজির হওয়া থেকে’’।[7]

 اللّٰهُمَّ  إِنِّى أَعُوذُ بِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ اللّٰهُمَّ  أَنْتَ تَكْشِفُ الْمَغْرَمَ وَالْمَأْثَمَ اللّٰهُمَّ  لاَ يُهْزَمُ جُنْدُكَ وَلاَ يُخْلَفُ وَعْدُكَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ

‘‘হে আল্লাহ্! তোমার সম্মানিত ও বরকতময় চেহারার উসীলায় এবং তোমার সকল বাক্যের মাধ্যমে ঐ সমস্ত বিষয়ের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেগুলোর কপাল তুমি ধরে আছ। হে আল্লাহ্! তুমিই ঋণ ও গুনাহ্সমূহ দূর করো। হে আল্লাহ! তোমার সৈনিকরা পরাজিত হয়না। তোমার ওয়াদার পরিবর্তন হয়না। তুমি পবিত্র। প্রশংসাসহ আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি’’।[8]

أَعُوذُ بِوَجْهِ اللهِ الْعَظِيمِ الَّذِىْ لَيْسَ شَىْءٌ أَعْظَمَ مِنْهُ وَبِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِى لاَ يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلاَ فَاجِرٌ وَبِأَسْمَاءِ اللهِ الْحُسْنَى كُلِّهَا مَا عَلِمْتُ مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمْ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَبَرَأَ وَذَرَأَ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ ذِىْ شرٍّ لاَ أُطِيْقُ شرَّهُ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ ذِى شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ إنَّ ربِّىْ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيْمٍ

‘‘আমি আল্লাহর বরকতময় চেহারার উসীলায় আশ্রয় চাচ্ছি, যার চেয়ে বড় আর কিছু নেই। আর আমি আল্লাহর কালেমাসমূহের উসীলায় আশ্রয় চাচ্ছি, যেই কালেমাগুলো কোন নেককার কিংবা বদকারের পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব নয়। আরও আশ্রয় চাচ্ছি, আল্লাহর ঐ সমস্ত আসমায়ে হুসনার উসীলায়, যেগুলো আমি জানি এবং যেগুলো আমার জানা নেই। আশ্রয় চাচ্ছি ঐ জিনিষের অনিষ্ট হতে, যা তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং বিস্তার করেছেন। আরও আশ্রয় চাচ্ছি প্রত্যেক ক্ষতিকারক বস্ত্তর ক্ষতি থেকে, যা প্রতিহত করা আমার দ্বারা সম্ভব নয়। আরও আশ্রয় চাচ্ছি প্রত্যেক ঐ ক্ষতিকারকের ক্ষতি হতে, যার কপাল তোমার হাতে। নিশ্চয়ই আমার রব সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত’’।

اللّٰهُمَّ  أنت ربِّى لاَ إِلَهَ إِلَا أَنْتَ عَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَأَنْتَ رَبّ العَرْشِ العَظِيْمِ مَا شَاءَ اللهُ كَانَ وَمَا لَمْ يَشَأْ لَمْ يَكُنْ لَا حَوْلَ ولا قُوَّة إلابالله أَعْلَمُ أنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ وأنَّ الله قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْئٍ عِلْمًا وَأَحْصَى كُلَّ شَيْئٍ عَدَداً اللّٰهُمَّ  إنِّىْ أَعُوْذُ بِكَ مِن شَرِّ نَفْسِىْ وشَرَّ الشَّيْطَانِ وشِرْكِهِ ومِن شَرِّ كُلِّ دابةٍ أَنْتَ آخذٌ بِنَاصِيَتِهَا إنَّ ربِّىْ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيْمٍ  

‘‘হে আল্লাহ্! তুমি আমার প্রভু। আপনি ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার উপর ভরসা করেছি। আপনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ্ যা চান, তাই হয়। যা তিনি চান না, তা হয়না। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত গুনাহ হতে বিরত থাকা ও আনুগত্য করার কোন শক্তি নেই। আমি অবগত আছি যে, আল্লাহ্ তা‘আলা সকল বস্ত্তর উপর ক্ষমতাবান। তিনি স্বীয় জ্ঞান দ্বারা সকল বস্ত্তকে ঘিরে আছেন। প্রত্যেক জিনিষের সংখ্যা তিনি অবগত আছেন। হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে আমার নফ্সের ও শয়তানের অকল্যাণ এবং শিরক থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ্! আমি আশ্রয় চাচ্ছি প্রত্যেক ঐ বিচরণকারী প্রাণীর অনিষ্ট হতে, তুমি যার কপাল ধরে আছ। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সঠিক পথের উপর রয়েছেন’’।[9]

تَحَصَّنْتُ بِاللهِ الَّذِىْ لاَ إِلَهَ إلا هُوَ إلَهِىْ وَإِلَهُ كُلِّ شَيْئٍ وَاعْتَصمْتُ بِرَبِّىْ وَرَبِّ كُلِّ شَيْئٍ وَتَوَكَّلْتُ عَلَى الْحَيِّ الْذِىْ لاَ يَمُوْتُ واستَدْفَعتُ الشَّرَّ بِلاَحَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَا بِاللهِ حَسْبِىَ اللهُ ونِعْمَ الوَكِيْلُ حَسِْبىَ الرَّبُّ مِنَ الْعِبَادِ حَسِْبىَ الْخَالِقُ مِنَ الْمَخْلُوْقِ حَسْبِىَ الرَّازِقُ مِنَ الْمَرْزُوْقِ حَسْبِىَ الَّذِيىْ هُوَ حَسْبِىْ حَسْبِىَ الَّذِىْ بِيَدِهِ مَلَكُوْتُ كُلِّ شىءٍ وهو يُجِيْرُ ولا يُجَارُ عَلَيْهِ حَسِْبىَ اللهُ وَكَفَى سَمِعَ الله لمنْ دَعَا لَيْسَ وَرَاء اللهِ مَرْمَى حَسْبِىَ اللهُ لاَ إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ العَظِيْم

‘‘আমি ঐ আল্লাহর হেফাজতে প্রবেশ করছি, যিনি ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই। তিনি আমার এবং সবকিছুর ইলাহ (মাবুদ)। আমি আমার এবং প্রত্যেক বস্ত্তর প্রতিপালকের হেফাজতে প্রবেশ করছি। আমি সেই আল্লাহর উপর ভরসা করছি, যিনি চিরঞ্জীব। লা হাওলা ও লা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্-এর উসীলায় অকল্যাণ প্রতিরোধ করছি। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি উত্তম কর্ম সম্পাদনকারী। আল্লাহর বান্দাদের ছাড়া আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, সৃষ্টি ছাড়া স্রষ্টাই আমার জন্য যথেষ্ট। মারযুক (রিযিকপ্রাপ্ত) ছাড়া রাযেকই (রিযিক দাতা) আমার জন্য যথেষ্ট। সেই সত্তাই আমার জন্য যথেষ্ট, যিনি একাই যথেষ্ট। সেই আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, যার হাতেই সবকিছুর রাজত্ব। তিনি আশ্রয় দেন। তাঁর খেলাফে (বিপরীতে) কোন আশ্রয়দাতা নেই। আল্লাহ্ই আমার জন্য যথেষ্ট। যে দু’আ করে, তিনি তার দু’আ শুনেন। আল্লাহ্ ছাড়া আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর ভরসা করছি। তিনি আরশে আযীমের প্রভু’’।

যে ব্যক্তি উপরোক্ত দু’আগুলো পাঠ করবে সে অবশ্যই ফল পাবে এবং এগুলো যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তাও বুঝতে পারবে। এগুলো আল্লাহর ইচ্ছায় বদনযর পৌঁছতে বাধা প্রদান করে। বদনযর পৌঁছে গেলেও দু’আ পাঠকারীর ঈমানী শক্তি অনুযায়ী এগুলো বদনযরের প্রভাবকে প্রতিহত করে। ব্যক্তির আভ্যন্তরীণ শক্তি, প্রস্ত্ততি, পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুল, অন্তরের দৃঢ়তা অনুযায়ী এগুলোর পাঠক উপকৃত হয়ে থাকে এবং বদনযর হতে নিরাপদ থাকে। কেননা এগুলো হচ্ছে অস্ত্র। আর অস্ত্র যে চালায় তার চালানোর উপরই অস্ত্রের উপকারিতা নির্ভরশীল। অর্থাৎ শুধু অস্ত্র হাতে থাকলেই অস্ত্র দিয়ে ফায়দা হাসিল করা যায়না, যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব হয়না এবং শত্রুর আক্রমণও প্রতিহত করা যায় না। অস্ত্রের সঠিক ব্যবহার এবং তা চালানোর অভিজ্ঞতাই এখানে মূল ধর্তব্য বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *