শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / মরণোত্তর দেহ দান বা চক্ষু দান করা কি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ আছে?

মরণোত্তর দেহ দান বা চক্ষু দান করা কি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ আছে?

সম্মান্নিত মুফতী সাহেব
আস’সালামু আলাইকুম

প্রশ্নঃ মরণোত্তর দেহ দান বা চক্ষু দান করা কি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ আছে? দয়া করে জানাবেন।

بسم الله الرحمن الرحيم
وعليكم السلام و رحمة الله و بركاته

উত্তরঃ সংখ্যাফগরিষ্ঠ ফুকাহা এব্যপারে ঐক্যমত্য পোষন করেছেন যে, দান সহীহ হবার জন্য শর্ত হল, দানকারী দানকৃত বস্তুর প্রকৃত মালিক হতে হবে। যেহেতু মানুষ তার দেহের প্রকৃত মালিক নয়,তাই মানুষ চাইলেই তার দেহ দান করে যেতে পারবে না।

সুতরাং মরণোত্তর দেহ বা চক্ষু অথবা অন্য কোন অঙ্গ দান করা জায়েজ নাই। তেমনি গবেষণা বা নিজের মহত্ত্ব প্রকাশে কোন দাতব্য প্রতিষ্ঠান বা মেডিকেলে দান করাও একে বারেই জায়েয নাই। আর এ ক্ষেত্রে অন্যদের জন্যও তা সংগ্রহ ও ব্যবহার করা জায়েজ নাই।

তবে কিছু ফুকাহে কেরাম কিছু শর্তের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তিদের দান কৃত অঙ্গ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। শর্ত হল,
১।দাতার জীবদ্দশায় অনুমতির পাশাপাশি মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদেরও অনুমতি থাকতে হবে।
২। তার যে অঙ্গ নেয়া হবে তা জীবিত ব্যক্তির শরীরে স্থাপন করলে জীবিত ব্যক্তি তার থেকে উপকৃত হওয়ার ব্যপারে প্রবল ধারণা থাকতে হবে।
৩। বিজ্ঞ ডাক্তারের এ কথা বলা যে,এতে জীবিত রুগীর যথাযথ কাজ হবে।

সুতরাং কোন জীবিত ব্যক্তির জীবন রক্ষার্থে অনন্যোপায় হলেই দ্বিতীয় মতের উপর আমল করা যেতে পারে।

শরয়ী দলীল

{وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا } [الإسراء: 70]

أن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم كانت تقول: «كسر عظم المسلم ميتا ككسره وهو حي».  رواه الإمام مالك (برقم:45) و ابوداؤد(برقم: 3207) و ابن ماجه (برقم: 1617)

في بداية المجتهد ونهاية المقتصد :)4/ 112) أما الواهب فإنهم اتفقوا على أنه تجوز هبته إذا كان مالكا للموهوب صحيح الملك،

و في فتح الباري لابن حجر (11/ 539)  ومن قتل نفسه بشيء في الدنيا عذب به يوم …… قال بن دقيق العيد هذا من باب مجانسة العقوبات الأخروية للجنايات الدنيوية ويؤخذ منه أن جناية الإنسان على نفسه كجنايته على غيره في الإثم لأن نفسه ليست ملكا له مطلقا بل هي لله تعالى فلا يتصرف فيها إلا بما أذن له فيه

و في شرح مسلم للنووي (14/ 103 (وقد فصله أصحابنا فقالوا إن وصلت شعرها بشعر آدمي فهو حرام بلاخلاف سواء كان شعر رجل أو امرأة وسواء شعر المحرم والزوج وغيرهما بلاخلاف لعموم الأحاديث ولأنه يحرم الانتفاع بشعر الآدمي وسائرأجزائه لكرامته بل يدفن شعره وظفره وسائر أجزائه

و في بدائع الصنائع (6/ 119) أن يكون مالا متقوما فلا تجوز هبة ما ليس بمال أصلا كالحر والميتة والدم وصيد الحرم والإحرام والخنزير وغير ذلك على ما ذكرنا في البيوع ولا هبة ما ليس بمال مطلق كأم الولد والمدبر المطلق والمكاتب لكونهم أحرارا من وجه ولهذا لم يجز بيع هؤلاء ولا هبة ما ليس بمتقوم كالخمر ولهذا لم يجز بيعها.

و في التاج والإكليل (3/77) إحياء النفس أولى من صيانة ميت

প্রামাণ্য গ্রন্থাবলীঃ
১। সূরা  বনী ইসরাইল, আয়াত ৭০
২। মুআত্ত্বা মালেক, হাদীস নং ৪৫
৩। সুনানে আবুদাউ, হাদীস নং ৩২০৭
৪। সুনানে ইবনে মাযা হাদীস নং ১৬১৭
৫। ফাতহুল বারী ১১/৫৩৯
৬। শরহে মুসলিম লিন নববী ১৪/১০৩
৭। বিদায়াতুল মুজতাহিদ ৪/১১২
৮। বাদায়েউস সনায়ে’ ৬/১১৯
৯। আল বাহরুর রায়েক ৮/৪০৩
১০। আত তাজ ওয়াল ইকলীল (মাওয়াহিবুল যালীল সহ) ৩/৭৭
১১। ফাতাওয়া আলমগিরী ৫/৩৬০
والله أعلم بالصواب

উত্তর প্রদানে                 .
মাওলানা মুহাম্মাদ আরমান সাদিক.
ইফতা বিভাগ                  .
জামিয়াতুল আসআদ আল ইসলামিয়া.

সত্যায়ন
মুফতী আব্দুল হাসিব দা. বা.
মুফতী
জামিয়াতুল আসআদ আল ইসলামিয়া

সত্যায়ন ও সার্বিক তত্তাবধানে
মুফতী হাফীজুদ্দীন দা. বা.
প্রধান মুফতী
জামিয়াতুল আসআদ আল ইসলামিয়া

 প্রশ্ন করুনঃ ইমেইল-jamiatulasad@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *