শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / সারা জীবন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযার মানত করলে কি হুকুম?

সারা জীবন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযার মানত করলে কি হুকুম?

আবদুল্লাহ
ঢাকা


আসসালামু আলাইকুম।
প্রশ্নঃ আমার এক বন্ধু মানত করেছে যে তার যদি একটি সমস্যা আল্লাহ তা’আলা সমাধান করে দেন, তাহলে সে সারা জীবন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখবে। এখন তার প্রশ্ন হল নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কোন সুন্নত মানার ব্যাপারে এইরকম শর্ত আল্লাহর কাছে দেয়া ঠিক হবে কিনা। যেহেতু সোমবার ও বৃহস্পতিবার নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) রোযা রাখতেন। নাকি মানত অন্য কোন বিষয়ে করলে ভাল হবে।
আর যদি মানত পুরা করতে না পারে তাহলে কি হবে এবং কি করতে হবে?

بسم الله الرحمن الرحيم
وعليكم السلام و رحمة الله و بركاته

উত্তরঃ যদি কেউ নির্দিষ্ট কোন দিনে রোজা রাখার মানত করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিনই তার রোজা রাখা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। তাহলে মানত পুরা করার জন্য সে দিনই রোজা রাখতে হবে। যদি না সে দিন রোজা রাখার ব্যপারে শরীয়তের কোন নিষেধাজ্ঞা থেকে থাকে। যেমন দুই ঈদের দিন ও আইয়ামে তাশরিকের তিন দিন। এ পাঁচ দিনের কোন একদিনে রোজা রাখার মনত করলেও রোজা রাখা যাবে না। বরং পরবর্তিতে যে কোন সময় তার কাযা আদায় করে নিতে হবে।

আপনার বন্ধু যেহেতু মানত করে ফেলেছে তাই তাকে এমানতই আদায় করতে হবে। এখন তা আদায় নাকরার সুযোগ নাই। সুতরাং তার জন্য প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা আবশ্যক। তিনি যেহেতু সারাজীবন রোজা রাখার শর্তারোপ করেছেন। তাই তাকে সারা জীবনই সপ্তাহের এ দুই দিন রোজা রাখতে হবে। শরীয়তের নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোন কারণে এ দিনগুলোতে রোজা রাখতে না পারলে তা অন্য কোন দিন তা আদায় করে নিতে হবে। ভবিষ্যতে বার্ধক্যের কারণে যদি না রখতে পারে তাহলে প্রতি রোজার জন্য একজন মিসকিনকে দু’বেলা খাবার খাওয়াবে কিংবা এক সদকায়ে ফিতির পরিমান টাকা বা খাদ্য ফিদিয়া হিসেবে আদায় করে দিবে। কোন রোজা অনাদায় থেকে গেলে মৃত্যুর সময় নিকটাত্মীয়দের নিজ সম্পদ থেকে ফিদিয়া আদায় করে দেয়ার অসিয়ত করে যাবে।

উল্লেখ্য, সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা মুস্তাহাব। রোযা রাখলে সওয়াব আছে, না রাখলে গোনাহ নাই। সে হিসেবে এ দু’দিন কারো জন্য রোজা রাখা আবশ্যকও নয়। তবে কেউ যদি মানতের মাধ্যমে নিজের উপর কোন দিন রোজা রাখা আবশ্যক করে নেয়, তাহলে শুধু এদু’দিন নয় যে কোন দিন আবশ্যক হতে পারে। আর এই আবশ্যকতা সুন্নতের কারণে নয় বরং মানতের কারণে তৈরি হয়।

শরয়ী দলীল

في الفتاوى الهندية (1/ 209) إذا نذر أن يصوم كل خميس يأتي عليه فأفطر خميسا واحدا فعليه قضاؤه كذا في المحيط.
ولو أخر القضاء حتى صار شيخا فانيا أو كان النذر بصيام الأبد فعجز لذلك أو باشتغاله بالمعيشة لكون صناعته شاقة فله أن يفطر ويطعم لكل يوم مسكينا على ما تقدم، وإن لم يقدر على ذلك لعسرته يستغفر الله إنه هو الغفور الرحيم، ولو لم يقدر لشدة الزمان كالحر فله أن يفطر وينتظر الشتاء فيقضي كذا في فتح القدير. هذا إذا لم يكن نذره بالأبد هكذا في الخلاصة.

في تحفة الملوك (ص: 150) وَيسْتَحب صَوْم يَوْم الْخَمِيس وَالْجُمُعَة وَأَيَّام الْبيض وَيَوْم عَرَفَة لغير الْحَاج

প্রামাণ্য গ্রন্থাবলীঃ
কিতাবুল আসল ২/১৭০
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৯
তুহফাতুল মুলূক ১৫০
তুহফাতুল ফুকাহা ১/৩৪৪
আন নুতাফ ফিল ফাতাওয়া ৯২
ফাতাওয়া রহীমিয়া ৯/২৮
والله أعلم بالصواب

উত্তর প্রদানে           .
মাওলানা মুহাম্মাদ আরমান সাদিক.
ইফতা বিভাগ           .
জামিয়াতুল আসআদ আল ইসলামিয়া.

 সার্বিক তত্তাবধানে
মুফতী হাফীজুদ্দীন দা. বা.
প্রধান মুফতী
জামিয়াতুল আসআদ আল ইসলামিয়া

প্রশ্ন করুনঃ ইমেইল-jamiatulasad@gmail.com