শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / সুন্নাহর পরিচয়, গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক

সুন্নাহর পরিচয়, গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক

সুন্নাহর পরিচয়, গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক

fiqah

DOWNLOAD LINK-1

DOWNLOAD LINK-2

সুন্নাহ’র পরিচয়
সুন্নাহ শব্দটি মুসলিম সমাজে একটি সুপরিচিত পরিভাষা, কিন্তু
শব্দটি আরবী হিসেবে তার আভিধানিক ও পারিভাষিক একাধিক পরিচয়
হতে পারে। নিম্নে সুন্নাহর আভিধানিক ও পারিভাষিক পরিচয় তুলে ধরা
হল।
সুন্নাহর আভিধানিক পরিচয় : সুন্নাহ শব্দটির আরবী
আভিধানিক অর্থ হল : অর্থাৎ পথ ও পদ্ধতি, অর্থাৎ আদর্শ ও
রীতিনীতি, সুতরাং সুন্নাহ এর আভিধানিক অর্থ হল পথ ও
পদ্ধতি, আদর্শ ও রীতিনীতি চাই তা ভাল হোক অর্থবা খারাপ হোক।
“সুন্নাহ” এ অর্থেই কুরআন ও হাদীসে বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে।
যেমন- আল−াহ তা’আলা বলেন :
“তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে গেছে অনেক ধরণের জীবন পদ্ধতি,
রীতি ও নীতি। তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ- যারা মিথ্যা
প্রতিপন্ন করেছে তাদের পরিণতি কি হয়েছে।” [সূরা ঈমরান: ১৩৭]।
অত্র আয়াতে ‘শব্দটি সুন্নাহ এর বহুবচন, এ শব্দটি এখানে
জীবন পদ্ধতি ও রীতি-নীতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুন্নাতে রাসূল @ ও চার ইমামের অবস্থান
কুরআনুল কারীমে এরূপ বহু আয়াত এসেছে।

সুন্নাহ শব্দটি একই অর্থে হাদীসেও বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে,
যেমন-
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী < হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল−াহ @
বলেছেন : “তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির রীতি-নীতি বিঘতে-বিঘত,
হাতে-হাত অর্থাৎ হুবহু অনুসরণ করে ফেলবে, এমনকি তারা গুইসাপের
গর্তে প্রবেশ করলে তোমরাও তাদের অনুসরণ করে গর্তে প্রবেশ করবে।
আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল−াহর রাসূল! পূর্ববর্তী জাতি বলতে কি
ইয়াহুদ ও নাসারা? তিনি বললেন : তাহলে আবার কারা?।
এ হাদীসেএর মধ্যেশব্দটি সুন্নাহ অর্থাৎ
রীতি-নীতি ও জীবন পদ্ধতি” অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। এরূপ আরো বহু
হাদীসে এসেছে।
অতএব সুন্নাহ শব্দটি কুরআন, হাদীস ও আরবী ভাষায়
”রীতি-নীতি, পথ ও পদ্ধতি” অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই অধিকাংশের
নিকট ইহাই সুন্নাহ এর আভিধানিক অর্থ।
সুন্নাহর পারিভাষিক পরিচয় : ইসলামী শরীয়াতে যখন সাধারণভাবে
সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহার করা হবে তখন এর অর্থ দারাবে নাবী @-
এর আদেশ, নিষেধ এবং কথা, কাজ ও সম্মতি ইত্যাদি। এ জন্যই বলা
হয় যে, কিতাব ও সুন্নাহর দলীল, অর্থাৎ কুরআন ও হাদীসের দলীল। তবে
পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শাস্ত্রের বিদ্বানগণ স্বীয় উদ্দেশ্য
ফুটিয়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ভঙ্গিতে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
তি এবং সৃষ্টিগত ও চারিত্রিক গুণাবলী যাহাই প্রমাণিত হয় সবই সুন্নাহ
বলে পরিচিত। এই দৃষ্টিকোণ হতে অনেক মুহাদ্দিসের নিকট সুন্নাহ ও
হাদীস একই বিষয়।
ফিকাহ শাস্ত্রের নীতিমালা তথা অসূল শাস্ত্রবিদদের নিকট নাবী @
হতে কুরআন ছাড়া ইসলামের দলীল যোগ্য কথা, কাজ ও সম্মতি যা কিছু
প্রকাশ পেয়েছে সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত।
ফিকাহ্ শাস্ত্রবিদদের নিকট নাবী @ হতে ফরয ও ওয়াজিব ছাড়া যে
সমস্ত বিধান সাব্যস্ত হয়েছে তা সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভূক্ত। আবার বলা হয়
যা করলে ছাওয়াব হবে কিন্তু ছুটে গেলে শাস্তি হবে না তাহাই সুন্নাহ।
বিদ্বানগণের উদ্দেশ্য ভিন্নতার কারণে সংজ্ঞার ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
উপরোক্ত সংজ্ঞা সমূহের মধ্যে মুহাদ্দিসদের সংজ্ঞাটি ব্যাপক অর্থ সম্বলিত,
অর্থাৎ নাবী @ হতে প্রমাণিত কথা, কাজ, সম্মতি এবং সৃষ্টিগত ও
চারিত্রিক গুণাবলী সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত।
অবশ্য নাবী @-এর সৃষ্টিগত ও স্বভাবগত গুণাবলী সুন্নাহ এর মধ্যে
অন্তর্ভূক্ত কিনা সে ব্যাপারে কিছু মতামত পরিলক্ষিত হয়। তাই এক্ষেত্রে
বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল−ামা নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ.)-এর
সুন্নাহর সংজ্ঞাটি যথার্থ বলে মনে হয়। তিনি বলেন
“ইসলামী পরিভাষায় সুন্নাহ : এ উম্মাতের জন্য শরীয়তের উদ্দেশ্যে
নাবী @ হতে যে সব কথা, কাজ ও সম্মতি প্রকাশ পেয়েছে তাকেই সুন্নাহ
বলা হয়। অতএব দ্বীনী বিষয়ের সাথে সংশি−ষ্ট নয় এবং ওয়াহীর সাথে
সম্পৃক্ত নয় এমন সব পার্থিব ও সৃষ্টিগত বিষয় নাবী @ হতে প্রকাশ হলেও
তাহা সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
আশা করা যায় এ সংজ্ঞাটিই যুক্তিযুক্ত ও মতভেদ মুক্ত সঠিক সংজ্ঞা।