শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / Top 10 / হুনাইনের যুদ্ধ

হুনাইনের যুদ্ধ

ইবনে ইসহাক বলেন- হাওয়াযেন গোত্র যখন মুসলমানদের মক্কা বিজয়ের সংবাদ পেল তখন মালেক বিন আওয়ফ হাওয়াযেন গোত্রকে ইসলামের বিরুদ্ধে একত্রিত করল। তার সাথে ছাকীফ, জুশাম এবং অন্যান্য গোত্রও এসে যোগ দিল। তাদের মধ্যে দুরাইদ বিন সিমতা নামক একজন বৃদ্ধ লোক ছিল। এই বৃদ্ধের মতই কার্যকর হত।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) এখানে হুনাইন যুদ্ধের ঘটনা বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি এই যুদ্ধের কতিপয় হিকমতের কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রসূলের সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, যখন মক্কা বিজয় হবে তখন লোকেরা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করবে এবং সমস্ত আরব গোত্র রসূল (সাঃ) এর আনুগত্য করবে।

যখন মক্কা বিজয় পূর্ণ হল তখন হিকমতে ইলাহীর দাবী এই ছিল যে হাওয়াযেন এবং তাদের সহযোগী গোত্রের লোকেরা ইসলাম কবুল করা থেকে বিরত থাকবে। তাই তারা বিরাট এক বাহিনী প্রস্ত্তত করে রসূল (সাঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিল। এর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা‘আলা চেয়েছেন যে, তাঁর হুকুমই বিজয়ী হবে ও তাঁর রসূল (সাঃ) এর সম্মান বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের থেকে অর্জিত মালে গণীমত মক্কা বিজয়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বারগাহে ইলাহীতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম পরিণত হবে।

এই বার আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নাবী এবং তাঁর বান্দাদেরকে এমন এক বিরাট শক্তির মাধ্যমে বিজয় দান করলেন, যা মুসলিমদের নিকট ইতিপূর্বে ছিলনা। উদ্দেশ্য হল, যাতে পরবর্তীতে অন্যান্য আরব শক্তি মুসলিমদের মুকাবেলা করতে ভয় পায়।

আল্লাহ্ তা‘আলার হিকমতের দাবী এই ছিল যে, মুসলমানদের সংখ্যা প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধের প্রথম দিকে তাদেরকে পরাজয়ের স্বাদ ভোগ করালেন।

এর মাধ্যমে তিনি ঐ সমস্ত মুসলিমদের মাথাকে নত করতে চেয়েছেন, যারা মক্কা বিজয়ের দিন অহংকারের সাথে পবিত্র মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন এবং আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর ন্যায় মস্তক অবনত করে হারামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সাথে প্রবেশ করেনি এবং যারা বলেছিল- সংখ্যা কম হওয়ার কারণে আজ আমরা পরাজিত হবনা। এটি বুঝানোও উদ্দেশ্য ছিল যে, সাহায্য কেবল আল্লাহর পক্ষ হতেই আগমণ করে থাকে। রসূল (সাঃ) সেদিন স্বীয় মাথাকে এত নীচু করেছিলেন যে, তাঁর থুতনী বাহনের সাথে প্রায় মিশে যাচ্ছিল।

 

সুতরাং যখন মুসলমানদের মন ভেঙ্গে গেল, তখন তাদের মনে শান্তনা দেয়ার জন্য ফেরেশতা প্রেরণ করা হয়। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা স্বীয় রসূল (সাঃ) এবং মুমিনদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেন। আল্লাহ্ তা‘আলার হিকমতের আরও দাবী এই যে, আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়ের পোশাক কেবল বিনয়ীদের উপরই অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-

وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الأرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ * وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الأرْضِ وَنُرِيَ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُمْ مَا كَانُوا يَحْذَرُونَ

‘‘পৃথিবীতে যাদেরকে দুর্বল বিবেচনা করা হয়েছিল, আমার ইচ্ছা হল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করার, তাদেরকে নেতা করার এবং তাদেরকে যমীনের উত্তরাধিকারী করার এবং তাদেরকে দেশের ক্ষমতায় আসীন করার এবং ফেরাউন, হামান ও তাদের সৈন্যবাহিনীকে তা দেখিয়ে দেয়ার, যা তারা সেই দুর্বল দলের তরফ থেকে আশঙ্কা করত’’।[1]

 

বদরের যুদ্ধের মাধ্যমে আরবদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং হুনাইনের যুদ্ধের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এই উভয় যুদ্ধেই ফিরিস্তাগণ মুসলমানদের পক্ষে স্বশরীরে যুদ্ধ করেছেন। উভয়টিতেই নাবী (সাঃ) শত্রুদেরকে লক্ষ্য করে কঙ্কর নিক্ষেপ করেছেন। এই উভয় যুদ্ধেই আরবদের হিংসার আগুন নির্বাপিত হয়েছে। বদরের যুদ্ধে পরাজয়ের পর তাদের অন্তরে ভয় ঢুকে পড়েছিল এবং তাদের তেজ কমে গিয়েছিল। আর হুনাইন যুদ্ধ তাদের শক্তিকে খর্ব করে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *