শিরোনাম :
প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নোত্তর

একবিংশতম মাসআলা: নফস কি একটি নাকি তিনটি? কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ﴿يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفۡسُ ٱلۡمُطۡمَئِنَّةُ٢٧﴾ [الفجر: ٢٧] “হে প্রশান্ত আত্মা!” [সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭] ﴿وَلَآ أُقۡسِمُ بِٱلنَّفۡسِ ٱللَّوَّامَةِ٢﴾ [القيامة: ٢] “আমি আরো কসম করছি আত্ম-ভৎর্সনাকারী আত্মার!” [সূরা আল-কিয়ামা, আয়াত: ২] ﴿إِنَّ ٱلنَّفۡسَ لَأَمَّارَةُۢ بِٱلسُّوٓءِ﴾ [يوسف: ٥٢] “নিশ্চয় নাফস মন্দ কজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫২] তাহলে নফস কি মুতমাইন্না, লাওয়ামাহ ও আম্মারাহ তিন রকমের?

উত্তর: নফস মূলত একটি, তবে এর অনেক সিফাত তথা গুণ রয়েছে। ফলে নফসের গুণের হিসেবে এক একটি নাম দেওয়া হয়েছে। একে মুতমাইন্না  (مطمئنة)  বলা হয়েছে, যেহেতু সে তার রবের ইবাদত ও ভালোবাসায় মুতমাইন্ন তথা প্রশান্ত। আবার একে লাওয়ামাহ(لوامة)  বলা হয়েছে, কেননা সে ব্যক্তির বাড়াবাড়িতে তাকে ভর্ৎসনা করে। আবার একে আম্মারাহ(أمّارة)  বলা হয়েছে, যেহেতু সে ...

Read More »

বিংশতম মাসআলা: নফস ও রূহ কি একই জিনিস নাকি দু’টি দু’জিনিস?

উত্তর: আল-কুরআনে নফস তথা আত্মাকে মানুষের পুরো সত্তাকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ﴿فَسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ﴾ [النور : ٦١]  “(তবে তোমরা যখন কোন ঘরে প্রবেশ করবে) তখন তোমরা নিজদের ওপর সালাম করবে।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬১] আল্লাহ তা‘আলা নফস সম্পর্কে আরও বলেছেন, ﴿وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ﴾ [النساء : ...

Read More »

উনবিংশতম মাসআলা: নসফের (আত্মার) হাকীকত কী?

উত্তর: এ মাসআলার ব্যাপারে আলিমগণ নানা দিক থেকে কথা বলেছেন, তাদের এক একজনের কথা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুল-ত্রুটিও বেশি হয়েছে। আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদেরকে হিদায়াত দান করেছেন তারা হকের যে বিষয়ে মতানৈক্য করেছিল তাঁর অনুমতিক্রমে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে সরল সঠিক পথের হিদায়াত দান করেন। সঠিক মত ...

Read More »

অষ্টাদশতম মাসআলা: রূহ কি শরীর সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে নাকি শরীর আগে সৃষ্টি করা হয়েছে?

উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তরে আলিমগণ কয়েকটি মত পেশ করেছেন। সেগুলো হলো: ১- একদল বলেছেন, রূহ শরীর সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে। ২- আরেকদল বলেছেন, শরীর রূহ সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে। সঠিক মত হলো, দ্বিতীয় মতটিই অধিকতর সঠিক। অর্থাৎ শরীর আগে সৃষ্টি করা হয়েছে, অতঃপর রূহ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কথার ...

Read More »

সপ্তদশতম মাসআলা: রূহ কি কাদীম (সর্বদা ছিল, আছে, থাকবে এমন) নাকি হাদীস তথা সৃষ্ট?

উত্তর: সমস্ত নবী-রাসূল একমত যে, রূহ আল্লাহর সৃষ্টি, তৈরি, তাঁর প্রতিপালিত ও তাঁরই হুকুমে পরিচালিত। এটি দীনের অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞাতব্য বিষয়, যা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। সাহাবী, তাবে‘ঈ ও তাবে-তাবে‘ঈদের যুগে এ ব্যাপারে কোন মতানৈক্য ছিলো না, আর এ তিনটি যুগ ছিলো সর্বোত্তম যুগ। এরপরে পথভ্রষ্ট ও বিদ‘আতীরা বলতে শুরু করল ...

Read More »

ষষ্ঠদশতম মাসআলা: জীবিত মানুষের আমলের দ্বারা কি মৃত ব্যক্তির রূহ উপকৃত হয়?

উত্তর: হ্যাঁ, জীবিত মানুষের দুটি আমলের দ্বারা মৃত ব্যক্তির রূহ উপকৃত হয়, এ দুটি আমলের ব্যাপাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত একমত। সেগুলো হচ্ছে: প্রথমত: ব্যক্তি জীবিত থাকাকালীন যেসব আমল তার মৃত্যুর পরে তার আমলনামায় সাওয়াব পাওয়ার কারণ, সেসব আমল করলে মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে। দ্বিতীয়ত: মুসলিমগণ তার জন্য যেসব দো‘আ, ইসতিগফার, সাদকা ও ...

Read More »

পঞ্চদশতম মাসআলা: মৃত্যুর পরে কিয়ামত পর্যন্ত রূহসমূহ কোথায় অবস্থান করে?

উত্তর: আলিমগণ এ ব্যাপারে অনেক মতানৈক্য করেছেন। তাদের প্রত্যেকেরই দলীল রয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, মৃত্যুর পরে রূহ জান্নাতে থাকে। আবার কেউ বলেছেন, রূহ জান্নাতের দরজায় থাকে। আবার অন্য একদল বলেছেন, রূহ কবরে থাকে। আবার আরেকদল বলেছেন, রূহসমূহকে ছেড়ে দেওয়া হয়, সেগুলো যেভাবে ইচ্ছা ঘুরে বেড়ায়। কেউ কেউ বলেছেন, এগুলো আল্লাহর ...

Read More »

চতুর্দশতম মাসআলা: কবরের ‘আযাব কি সর্বদা চলতে থাকবে নাকি তা মাঝে মাঝে হবে?

উত্তর: কবরের ‘আযাব দু’ধরণের। ১- সার্বক্ষণিক ‘আযাব। এর প্রমাণ আল্লাহ তা‘আলার বাণী,   ﴿ٱلنَّارُ يُعۡرَضُونَ عَلَيۡهَا غُدُوّٗا وَعَشِيّٗا٤٦﴾ [غافر: ٤٦]  “আগুন, তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় তার সামনে উপস্থিত করা হয়।” [সূরা গাফের, আয়াত: ৪৬] সামুরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে ‘আযাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, «فهو يُفْعَلُ بِهِ إِلَى يَوْمِ ...

Read More »

ত্রয়োদশতম মাসআলা: শিশুরা কি কবরে জিজ্ঞাসিত হবে?

উত্তর: না, শিশুরা কবরে জিজ্ঞাসিত হবে না। কেননা যাদের রাসূল ও রাসূলের আনিত জিনিস সম্পর্কে জ্ঞান আছে তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। ফলে তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তারা কি রাসূলের অনুসরণ করেছে, নাকি তার বিরুদ্ধাচরণ করেছে? পক্ষান্তরে শিশু ভালো-মন্দ কিছুই পার্থক্য করতে পারে না, তাহলে তাদেরকে কীভাবে জিজ্ঞেস করা হবে? অন্য দিকে ...

Read More »

দ্বাদশতম মাসআলা: মুনকার ও নাকীরের প্রশ্ন কি এ উম্মতের জন্যই খাস নাকি অন্যান্য উম্মতেও জিজ্ঞাসা করে হয়েছিল?

উত্তর: আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। প্রত্যেক জাতিই তাদের নবী সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। তাদেরকে প্রশ্ন করে ও তাদের বিরুদ্ধে দলীল প্রমাণিত হওয়ার পরেই কবরে শাস্তি দেওয়া হবে, যেভাবে কিয়ামতের দিনে তাদেরকে জেরা করা ও দলীল-প্রমাণ সাব্যস্ত করার পরে শাস্তি দেওয়া হবে।

Read More »